শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ফুড ভ্লগিংয়ের অন্ধকার জগৎ ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
ফুড ভ্লগিংয়ের অন্ধকার জগৎ ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিদিন আমরা যখন ফেসবুক বা ইউটিউবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করি তখন আমাদের হোমপেজে সবচেয়ে বেশি যে কন্টেন্টগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে তা হলো চমৎকার সব থাম্বনেইল আর চোখধাঁধানো রঙিন ভিডিওতে ভরপুর বিভিন্ন ফুড ভ্লগিং বা খাবারের রিভিউ। এই ভিডিওগুলোতে জনপ্রিয় ফুড ভ্লগাররা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গিয়ে ক্যামেরার সামনে খাবার মুখে দিয়েই অত্যন্ত রোমাঞ্চিত হয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে ওঠেন অস্থির কিংবা অসাধারণ জুসি যা দেখে স্ক্রিনের এপাশে বসে থাকা যে কারও মনে হতে পারে এখনই ছুটে গিয়ে সেই জাদুকরী খাবারটি আস্বাদন করে আসি। 

কিন্তু আমরা কি কখনো শান্ত মাথায় একবারও ভেবে দেখেছি এই উজ্জ্বল আলোর ঝলকানি আর প্রশংসাবাক্যের আড়ালে আসলে কতটা অন্ধকার লুকিয়ে আছে আর আমরা স্ক্রিনে যা দেখছি তা কি আসলেই কোনো সত্য রিভিউ নাকি টাকার বিনিময়ে সাজানো নিখুঁত কোনো নাটক বা প্রতারণার ফাঁদ? এই চরম বাস্তবতার ইসলামি বিশ্লেষণ এবং সত্যের সন্ধানে আমাদের প্রতিদিনের এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ কন্টেন্ট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং সাবস্ক্রাইব ও ফলো করে যুক্ত থাকুন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সাথে। বর্তমান সময়ে আমাদের সাধারণ মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে চারদিকে গড়ে উঠেছে কোটি কোটি টাকার এক বিশাল ফেইক রিভিউ বা ভুয়া পর্যালোচনার অন্ধকার বাজার যেখানে অনেক জনপ্রিয় ফুড ভ্লগাররা রেস্তোরাঁগুলোকে ব্ল্যাকমেইল করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে নিজেদের ডিজিটাল জনপ্রিয়তাকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করছেন। 

ইনসাইডার রিপোর্ট অনুযায়ী এখনকার এই ডিজিটাল জগতে পর্দার আড়ালে একটি অলিখিত রেট কার্ড বা মূল্যতালিকা খুব সুকৌশলে কাজ করে যেখানে একজন মেগা ইনফ্লুয়েন্সার বা জনপ্রিয় ভ্লগার শুধুমাত্র একটি পজিটিভ বা ইতিবাচক রিভিউ দেওয়ার জন্য রেস্তোরাঁর মালিকের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করে থাকেন আর এর সাথে যুক্ত থাকে পুরো টিমের ফ্রি খাওয়া এবং ভিআইপি ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা। টাকার বিনিময়ে এই যে জেনেশুনে খারাপ বা মানহীন খাবারকেও অসাধারণ স্বাদ বলে হাজার হাজার মানুষের সামনে প্রচার করা হচ্ছে এটি ইসলামের দৃষ্টিতে চরম প্রতারণা এবং আমানতের খিয়ানত। একজন ইনফ্লুয়েন্সারের কাছে তার ফলোয়ারদের এই সরল আস্থা হলো একটি পবিত্র আমানত আর ইসলামে এই আমানতের খিয়ানত করাকে মুনাফিকের অন্যতম আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মদিনার বাজারে একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন খাদ্য বিক্রেতার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্তূপ করে রাখা শস্যের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন ভেতরের শস্যগুলো সম্পূর্ণ ভেজা। 

বিক্রেতাকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় যে বৃষ্টির কারণে এমন হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতারণার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের দলভুক্ত নয় (সহীহ মুসলিম ১০১)। এই ফুড ভ্লগাররা শুধু টাকার বিনিময়ে ভালো রিভিউ দিয়েই যে ক্ষান্ত হন তা কিন্তু নয় বরং অনেক সময় তারা কোনো রেস্তোরাঁয় গিয়ে যদি তাদের মনমতো ফ্রি খাবার বা মোটা অঙ্কের টাকা না পান তবে অর্থের বিনিময়ে নীরব থাকার এক জঘন্য নীতি গ্রহণ করেন অথবা রেস্তোরাঁর মালিককে এই বলে সরাসরি হুমকি দেন যে তাদের অন্যায্য দাবি মেনে না নিলে ওই রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া নেতিবাচক ভিডিও বানিয়ে ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়া হবে যা সম্পূর্ণভাবে জুলুম এবং ডিজিটাল চাঁদাবাজির শামিল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করতে কঠোরভাবে নিষেধ করে বলেছেন

﴿وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ওয়া লা তাকুলু আমওয়ালাকুম বাইনাকুম বিল বাতিল, ওয়া তুদলু বিহা ইলাল হুককামি লিতাকুলু ফারিকাম মিন আমওয়ালিন নাসি বিল ইছমি ওয়া আনতুম তালামুন।" অর্থ: "আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের সম্পদের কিছু অংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের কাছে পেশ করো না।" (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৮)

এই ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল এবং মিথ্যার রাজত্ব আজ এতই ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে যে কখনো কখনো একটি সামান্য বানোয়াট গুজব পুরো একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে এক নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে পারে যার একটি অত্যন্ত জ্বলন্ত ও দুঃখজনক উদাহরণ হলো ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ সুলতানস ডাইন নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি। সেসময় হঠাৎ করেই ইন্টারনেটে একটি ভিডিও আগুনের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দাবি করা হয় যে ওই নামকরা রেস্তোরাঁটি খাসির মাংসের বদলে গ্রাহকদের কুকুর বা বিড়ালের মাংস পরিবেশন করছে। 

মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার অতি উৎসাহী মানুষ কোনো সত্যতা যাচাই না করেই ভিউ আর লাইকের নেশায় ভিডিওটি শেয়ার করতে থাকে এবং দেশজুড়ে সেই রেস্তোরাঁটি বয়কটের ডাক দেওয়া হয় কিন্তু পরবর্তীতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সুষ্ঠু তদন্তে স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসে যে এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি পরিকল্পিত গুজব এবং সেই হাড়গুলো আসলে ছোট জাতের খাসিরই হাড় ছিল। একটি ভুয়া ভিডিও এবং ভিত্তিহীন গুজবের কারণে সেই রেস্তোরাঁটির কয়েক কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়ে যায় এবং সেই সাথে জড়িত অসংখ্য কর্মচারীর হালাল রিজিকের পথ হুমকির মুখে পড়ে যা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গর্হিত এবং কবিরা গুনাহ। কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়ার পর তা যাচাই না করে অন্ধভাবে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আমানু ইন জাআকুম ফাসিকুম বিনাবায়িন ফাতাবাইয়্যানু আন তুসিবু কাওমাম বিজাহালাতিন ফাতুসবিহু আলা মা ফায়ালতুম নাদিমিন।" অর্থ: "হে মুমিনগণ, যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে তবে তোমরা তা ভালোভাবে যাচাই করে নাও এই আশঙ্কায় যে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো কওমের ক্ষতি করে বসবে অতঃপর তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য চরমভাবে লজ্জিত হবে।" (সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:৬)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো কথা বলার ভয়ংকর পরিণতি সম্পর্কে উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন কোনো ব্যক্তির মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে তাই বলে বেড়ায় (সহীহ মুসলিম ৫)। শুধু স্থানীয় ভ্লগাররাই নন এই ফেইক রিভিউয়ের পেছনে এখন নীরবে কাজ করছে বিশাল এক আন্তর্জাতিক সাইবার মাফিয়া চক্র যেখানে অত্যন্ত লজ্জার বিষয় হলো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলকে বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম বড় ফেইক রিভিউ ফ্যাক্টরি বা ভুয়া পর্যালোচনার কারখানা বলা হচ্ছে। 

ফেক রিভিউ ওয়াচ নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার গভীর তদন্তে উঠে এসেছে যে ছোট ছোট অফিসে বসে ক্লিক ফার্মগুলো সাধারণ মানুষের ডিজিটাল পরিচয় চুরি করে হাজার হাজার ভুয়া ফেসবুক ও গুগল অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে এবং সেই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করে পৃথিবীর বিভিন্ন নামিদামি রেস্তোরাঁর পেইজে টাকার বিনিময়ে ফাইভ-স্টার রিভিউ বিক্রি করছে। তারা হয়তো জীবনেও সেই রেস্তোরাঁটি চোখে দেখেনি কিন্তু টাকার বিনিময়ে তারা এমনভাবে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে রিভিউ লেখে যেন তারা সেখানে অসাধারণ একটি সময় কাটিয়েছে। আবার একইভাবে চুক্তি অনুযায়ী কোনো ভালো রেস্তোরাঁকে ধ্বংস করার জন্য এক রাতের মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ মিলে ওয়ান-স্টার রিভিউ দিয়ে রেটিং মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে। এই ধরনের জঘন্য কাজ সরাসরি মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার সমতুল্য যা ইসলামে শিরকের পর অন্যতম বড় একটি কবিরা গুনাহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। 

মিথ্যা সাক্ষ্যের ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের বারবার সতর্ক করে বলেছিলেন সাবধান এবং মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থেকো (সহীহ আল-বুখারী ২৬৫৪)। এই মিথ্যা রিভিউগুলোর মাধ্যমে শুধু যে ব্যবসায়িক প্রতারণা হচ্ছে তা নয় বরং সাধারণ মানুষের অমূল্য স্বাস্থ্যেরও মারাত্মক ক্ষতি করা হচ্ছে অত্যন্ত সুকৌশলে। রাস্তাঘাটের ধুলোবালির মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বিভিন্ন স্ট্রিট ফুডকে এই ভ্লগাররা ভিডিওতে এমনভাবে মহিমান্বিত করে দেখান যেন এটি জাদুকরী কোনো অমৃত খাবার অথচ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে রাস্তার ধারের এক প্লেট চটপটি বা ফুচকায় কোটি কোটি ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকতে পারে যা মানুষের শরীরে ভয়ংকর সব মরণব্যাধি রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম। 

একইভাবে বর্তমানে মাটির পাত্রে চা পানের একটি নতুন জোয়ার চারদিকে শুরু হয়েছে যাকে ভ্লগাররা অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু বলে ব্যাপক প্রচার করছেন কিন্তু পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে মাটির পাত্র যদি একবার ব্যবহারের পর ফেলে না দিয়ে বারবার ব্যবহার করা হয় তবে তা ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়ার এক বিশাল আখড়ায় পরিণত হয় কারণ মাটি সহজেই লালা বা জীবাণু শুষে নেয় যা সাধারণ ধোয়ায় কখনোই পরিষ্কার হয় না। ফলে একজন অসুস্থ মানুষের শরীর থেকে অন্য সুস্থ মানুষের শরীরে সহজেই মারাত্মক রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ইসলাম শুধু হালাল খাবার খাওয়ার নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেনি বরং খাবারটি স্বাস্থ্যসম্মত ও পবিত্র হওয়াকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে। এই প্রভাবশালী ভ্লগাররা নিজেদের ভিউ এবং স্পন্সরশিপের টাকার আশায় জেনেবুঝেও এই ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাগুলো গোপন রাখেন এবং মানুষকে একপ্রকার বিষপানে উৎসাহিত করেন অথচ ইসলামে নিজের বা অন্যের শারীরিক ক্ষতি করাকে সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন

﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ইয়া আইয়্যুহান নাসু কুলু মিম্মা ফিল আরদি হালালান তাইয়্যিবাও ওয়া লা তাত্তাবিউ খুতুওয়াতিশ শাইতান।" অর্থ: "হে মানবমণ্ডলী, পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু রয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।" (সূরা আল-বাকারা ২:১৬৮)

অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আত্মহত্যার সমতুল্য যেকোনো ক্ষতিকর কাজ থেকে নিষেধ করে বলেছেন

﴿وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا﴾ বাংলায় আরবি উচ্চারণ: "ওয়া লা তাকতুলু আনফুসাকুম ইন্নাল্লাহা কানা বিকুম রহিমা।" অর্থ: "আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।" (সূরা আন-নিসা ৪:২৯)

মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এবং সুস্থতার চেয়ে এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে ভিউ আর টাকার মূল্য যখন অনেক বেশি হয়ে যায় তখন সমাজের নৈতিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এই প্রতারণার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ এখন ধীরে ধীরে সচেতন হচ্ছে এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একটি নতুন এবং কঠোর নীতিমালা তৈরি করেছে যেখানে বলা হয়েছে যে এখন থেকে কোনো কোম্পানি বা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া কোনো খাবারকে দেশের সেরা বলে দাবি করতে পারবে না আর মিথ্যা তথ্য দিয়ে খাবারের প্রচারণা চালালে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। 

এই আইনেরই একটি প্রায়োগিক উদাহরণ আমরা সম্প্রতি দেখতে পেয়েছি একজন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকের ক্ষেত্রে যেখানে বিএসটিআই-এর কোনো অনুমোদন ছাড়াই পানীয় তৈরি ও বাজারজাত করার অপরাধে তাকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। দুনিয়ার আদালতের এই জরিমানা হয়তো তারা দিয়ে দিতে পারবে কিন্তু আখেরাতে মহান আল্লাহর কঠিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এই কোটি কোটি মানুষের সাথে করা প্রতারণার হিসাব দেওয়া কতটা ভয়ংকর হবে তা কি তারা একবারও ভেবে দেখেছে? কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি দেউলিয়া হবে যে দুনিয়াতে মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে এবং মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে।

 পশ্চিমা বিশ্বে যেমন উবা বাটলার নামের এক ব্যক্তি রেটিং সিস্টেমের বিশাল জালিয়াতি পুরো বিশ্বের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন ঠিক তেমনি আমাদের দেশের এই ফাইভ-স্টার রেটিংগুলোর পেছনেও প্রতিদিন লুকিয়ে আছে অসংখ্য ভুয়া আইডি এবং টাকার জঘন্য কারসাজি। তবে আশার কথা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে এখন সত্য প্রকাশের একটি নতুন ধারা শুরু হয়েছে যেখানে সৎ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা মানুষকে ভুয়া রিভিউ চিনতে শেখাচ্ছেন এবং তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন যে কোন রিভিউটির জন্য তারা রেস্তোরাঁ থেকে টাকা নিয়েছেন আর কোনটি তাদের ব্যক্তিগত ও সৎ পর্যালোচনা। আমাদের সমাজের ফুড ভ্লগারদেরও উচিত এই সততার চর্চা করা এবং নিজেদেরকে শুধু প্রভাব তৈরির কারিগর না ভেবে সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। 

যারা টাকার লোভে মিথ্যা রিভিউ দেন তাদের অবশ্যই মনে রাখা উচিত যে হারাম উপায়ে উপার্জিত অর্থের এক টুকরো খাবারও যদি শরীরে প্রবেশ করে তবে সেই শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাই কোনো রেস্তোরাঁর খাবার খাওয়ার আগে অন্ধভাবে এই ভ্লগারদের ওপর নির্ভর না করে আমাদের নিজেদের বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করতে হবে কারণ আপনার দিনরাত এক করে রোজগার করা কষ্টার্জিত টাকা এবং অমূল্য স্বাস্থ্য কোনো ফুড ভ্লগারের ভিউ বা ধান্দাবাজির চেয়ে কোনো অংশেই কম দামি নয় বরং এর প্রতিটি পয়সার হিসাব আপনাকে আল্লাহর কাছে দিতে হবে। ইয়া আল্লাহ আপনি আমাদের সকলকে সকল প্রকার ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধ উপার্জন থেকে সম্পূর্ণভাবে হিফাজত করুন এবং আমাদের জন্য শুধুমাত্র হালাল ও পবিত্র রিজিকের ফয়সালা করুন আমিন। আমাদের এই ইসলামি পথচলায় নিরন্তর সঙ্গ দিতে এবং সত্যের পক্ষে সচেতনতামূলক আওয়াজ তুলতে উম্মাহ কণ্ঠের সাথেই থাকুন এবং সঠিক তথ্য শেয়ার করে আপনার প্রিয়জনদেরও সতর্ক করুন।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

ফিকহ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!