শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: তোর্খাম সীমান্তে যুদ্ধের দামামা

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: তোর্খাম সীমান্তে যুদ্ধের দামামা

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। গত রবিবার ভোরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাক্তিকা প্রদেশে এই অভিযান চালায়। ইসলামাবাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৮০ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে, যারা নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগী সংগঠনের সদস্য। তবে কাবুল এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

এই সামরিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক কয়েকটি ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৩৬ জন নিহত হন। এরপর বাজাউর এবং বান্নু এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই হামলাকারীরা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘ইন্টেলিজেন্স-বেসড’ এই বিমান হামলা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।

হামলার পর নতুন একটি মাত্রা যুক্ত হয়েছে ভারতের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে। দিল্লি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তালেবান সরকারের সাথে ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ইসলামাবাদকে বিচলিত করে তুলছে। গত বছর ভারতের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে অ্যাম্বুলেন্স উপহার এবং কাবুলে পুনরায় দূতাবাস খোলার বিষয়টি পাকিস্তান অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফের মতে, ভারত ও তালেবানের এই ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। একদিকে সীমান্ত উত্তেজনা আর অন্যদিকে ভারতের সাথে তালেবানের সখ্যতা—এই দ্বিমুখী চাপে পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান সংকটের মুখে। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। বরং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অন্যথায়, এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!