পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যবর্তী দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও সরাসরি যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। শুক্রবার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে `সরাসরি যুদ্ধ` বা ওপেন ওয়ার ঘোষণা করার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কাবুলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ এবং কান্দাহার ও পাক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার খবর আসার পর বিশ্বশক্তিগুলো এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান এই সংঘাত নিরসনে এবং বেসামরিক নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় বইছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, উভয় দেশের উচিত আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। বিশেষ করে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে জাতিসংঘ মনে করে। সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যা সমাধানের জন্য মহাসচিব দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় দুই প্রতিবেশী দেশকে সংযত হওয়ার এবং ভ্রাতৃত্বসুলভ আচরণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, এই সময়টি আত্মসংযম এবং ইসলামী সংহতির। ইরান এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এবং পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়াও সীমান্ত হামলা দ্রুত বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তাগিদ দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, উভয় পক্ষ সম্মত হলে তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও এই যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা যাচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ধরেছে এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন তাদের ধৈর্য সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তারা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জবাব দিচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই পাকিস্তানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, আফগান জনগণ তাদের মাতৃভূমি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ। তিনি পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা পাকিস্তানের নিজস্ব তৈরি সমস্যা এবং প্রতিবেশী দেশের ওপর দোষ না চাপিয়ে তাদের উচিত নিজস্ব নীতি পরিবর্তন করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে তোর্খাম থেকে শুরু করে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন পয়েন্টে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে যা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

আপনার মতামত লিখুন :