রবিবার, ০১ মার্চ, ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

গুরবা বা আগন্তুক: শেষ যামানার সেই শ্রেষ্ঠ কাফেলা চেনার উপায়।

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
গুরবা বা আগন্তুক: শেষ যামানার সেই শ্রেষ্ঠ কাফেলা চেনার উপায়।

আখেরী যামানার সেই কাঙ্ক্ষিত কাফেলার আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি | ছবি Ai

আকাশের বুক চিরে যখন কালো মেঘের ঘনঘটা নেমে আসে আর এই ধরণী যখন জুলুমের ভারে নুয়ে পড়ে, তখন মুমিন হৃদয়ে এক করুণ আর্তি প্রতিধ্বনিত হয়—আমরা আজ কোন অন্ধকার সময়ের কিনারে দাঁড়িয়ে আছি? পৃথিবীর প্রতিটি ধূলিকণা যেন আজ এক মহান পরিত্রাতার জন্য হাহাকার করছে। নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে যখন জমিন ভিজে যায়, তখন মনে প্রশ্ন জাগে—আল্লাহর সেই ওয়াদাকৃত সাহায্য কি খুব কাছেই? মহান খলীফা ইমাম মাহদী কি তবে আমাদের এই অন্ধকার প্রহরে আলোর মশাল নিয়ে আবির্ভূত হতে চলেছেন? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সেই রহস্যময় বাহিনী এখন কোথায়, যারা তাঁর পতাকাতলে একত্রিত হবে?

১. গুরবা: সেই অচেনা আগন্তুকদের কাফেলা
ইমাম মাহদীর আগমনের পথে কোনো জাদুকরী সৈন্যবাহিনী আকাশ থেকে নামবে না। বরং তারা হবে এই পৃথিবীরই একদল ‍‍`গুরবা‍‍` বা আগন্তুক। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন:

"ইসলাম শুরু হয়েছিল স্বল্পসংখ্যক মানুষের মাধ্যমে এবং অচিরেই তা আবার সেই অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং সুসংবাদ সেই গুরবাদের জন্য।" (সহীহ মুসলিম, ১৪৫)

এই গুরবা বা অপরিচিতরাই হলো মাহদীর সেই গোপন শক্তি। তারা আজ দুনিয়ার ভিড়ে হারিয়ে গেছে। যখন সমাজ পাপাচারকে প্রগতি মনে করে, তখন তারা নিজেদের ঈমানকে হাতের তালুতে জ্বলন্ত কয়লার মতো আঁকড়ে ধরে রাখে।

২. খোরাসানের কালো পতাকা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
হাদীসের পাতায় আখেরী যামানার এই বাহিনীর একটি বড় চিহ্ন হলো ‍‍`কালো পতাকা‍‍`। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন:

"যখন তোমরা দেখবে কালো পতাকাগুলো খোরাসানের দিক থেকে আসছে তখন তোমরা সেগুলোতে যোগ দেবে, কারণ সেগুলোর মধ্যে আল্লাহর খলীফা মাহদী থাকবেন।" (মুসনাদে আহমাদ, ২২৩৮৭)

ঐতিহাসিক খোরাসান অঞ্চলটি বর্তমানের আফগানিস্তান, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত। আজ যখন আমরা এই অঞ্চলগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখি, তখন মুমিন হৃদয়ে শিহরণ জাগে। তবে মাহদীর বাহিনী কেবল একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, বরং একটি আদর্শিক চেতনার নাম।

৩. তারা এখন কী করছে? (আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি)
অনেকেই ভাবেন মাহদীর বাহিনী হয়তো কোনো গোপন গুহায় যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, তারা এখন আমাদেরই চারপাশে ছড়িয়ে আছে। তারা এখন:

আত্মশুদ্ধিতে ব্যস্ত: তারা সেই সব যুবক যারা পর্নোগ্রাফির নীল নেশা ছেড়ে দিয়ে সিজদায় মাথা নত করেছে।

জ্ঞান অন্বেষণে রত: তারা কেবল তলোয়ার বা অস্ত্রের কৌশল শিখছে না, বরং তারা কুরআন ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞান অর্জন করছে যাতে দাজ্জালের বুদ্ধিবৃত্তিক মায়াজালে পথ না হারায়।

সেবামূলক কাজে নিয়োজিত: কেউ হয়তো এতিমখানায় শিশুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, কেউবা নিভৃতে দাওয়াহর কাজ করছে।

৪. আপনি কি তাদের একজন হওয়ার যোগ্য?
মাহদীর বাহিনী হবে ‍‍`সীসাঢালা প্রাচীরের‍‍` মতো একতাবদ্ধ (সূরা আস-সাফ, ৬১:৪)। আজ যখন আমরা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে একে অপরের গীবত করছি, তখন কি আমরা সেই বাহিনীর যোগ্য? ৩১৩ জন বদরী সাহাবীর মতো হওয়ার জন্য যে ইস্পাত কঠিন ঈমান প্রয়োজন, তা কি আমাদের আছে?

ইমাম মাহদীর প্রতীক্ষা মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়। বরং তাঁর আসার আগে নিজেকে এবং সমাজকে ফিতনামুক্ত করার লড়াইয়ে নামাই হলো প্রকৃত প্রস্তুতি।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

সংবাদ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!