বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজানে ৭০০ গুণ সওয়াবের অফার: আপনি কি এই সুযোগ হারাবেন?

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
রমজানে ৭০০ গুণ সওয়াবের অফার: আপনি কি এই সুযোগ হারাবেন?

রমজানের ঐশ্বরিক রহমতের হাতছানি / Ai

একবার কল্পনা করুন তো, বছরের ঠিক একটি মাসের জন্য পৃথিবীর সবথেকে বড় কোম্পানি একটি অবিশ্বাস্য অফার ঘোষণা করল। তারা বলল, “আগামী ৩০ দিন আমাদের প্রতিষ্ঠানে আপনি যা-ই বিনিয়োগ করবেন, তার বিনিময়ে আমরা আপনাকে ৭০০ গুণ বা তারও বেশি মুনাফা দেব।” ভাবুন তো একবার, কী হুলস্থুল পড়ে যাবে! মানুষ তার সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য। এই দুনিয়ার সামান্য এক কোম্পানির অফারের জন্য যদি আমরা এতটা উদগ্রীব হতে পারি, তাহলে একবার ভাবুন সেই অফারের কথা, যা স্বয়ং আসমান ও জমিনের মালিক, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদের জন্য ঘোষণা করেছেন। রমজান মাস হলো সেই ঐশ্বরিক অফারের মাস, যেখানে আপনার প্রতিটি নেক আমলের মুনাফা শুধু ১০ বা ৭০ গুণই নয়, বরং তার চেয়েও বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য এক বিশেষ রহমতের মেগা ‍‍`SALE‍‍`।

রমজান কেন এত বিশেষ?

রমজান মাসের মাহাত্ম্য কেবল উপবাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই মাসটিকে আল্লাহ তা‘আলা নিজে বেছে নিয়েছেন কিছু অলৌকিক ঘটনার জন্য। এই মাসেই নাজিল হয়েছে মানবজাতির হেদায়েতের চূড়ান্ত উৎস—পবিত্র কোরআন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়” (সহীহ আল-বুখারী, ১৮৯৯)। আল্লাহ আমাদের জন্য ইবাদতের পরিবেশ কতটা সহজ করে দিয়েছেন! যে শয়তান সারাবছর আমাদের ধোঁকা দেয়, তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। জান্নাতের দরজাগুলো অবারিত। আল্লাহ যেন আমাদের বলছেন, “হে আমার বান্দা, আমি তোমার সফলতার সমস্ত পথ খুলে দিয়েছি। এখন শুধু তোমার এগিয়ে আসার পালা।”

সওয়াব বৃদ্ধির গাণিতিক হিসাব

রমজান মাসে সওয়াব বৃদ্ধির পরিমাণ ঠিক কত? হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা ব্যতীত। কারণ, রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।” তিনি আরও বলেন, “আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমল দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়” (সহীহ মুসলিম, ১১৫১)।
আমলের ধরণসাধারণ সময়রমজান মাসসাধারণ নেক আমল১০ গুণ সওয়াব৭০ থেকে ৭০০ গুণপবিত্র কুরআন তিলাওয়াতপ্রতি

অক্ষরে ১০ নেকিন্যূনতম ৭০-৭০০ নেকিদান-সদকাহনির্দিষ্ট সওয়াব৭০০ গুণ বা তার বেশিরোজা (উপবাস)নির্দিষ্ট সওয়াবঅগণিত (আল্লাহর ব্ল্যাঙ্ক চেক)

আলেমরা বলেন, রোজার পুরস্কার এতটাই বিশাল যে তা কোনো সংখ্যার ফ্রেমে বাঁধা সম্ভব নয়। এটি যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে রোজাদারের জন্য একটি ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’। আপনি যদি রমজানে মাত্র ১০ টাকা দান করেন, আল্লাহ চাইলে তার বিনিময়ে আপনাকে ৭০০০ টাকা বা তারও বেশি দান করার সওয়াব দিতে পারেন।

বোনাস অফার: লাইলাতুল কদর ও উমরাহ

রমজানের এই সাধারণ গুণিতকের বাইরেও কিছু বিশেষ ‘বোনাস অফার’ রয়েছে। যেমন লাইলাতুল কদর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ” (সূরা আল-কদর, ৯৭:৩)। অর্থাৎ, একটি রাতের ইবাদত ৮৩ বছরের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব এনে দিতে পারে। আবার রমজানে উমরাহ পালন করার সওয়াব নবীজির সাথে হজ করার সমতুল্য (সহীহ আল-বুখারী, ১৮৬৩)।

সুযোগ হারানোর চূড়ান্ত সতর্কবার্তা

যেকোনো বড় সেলের সময় যেমন লাভ করার সুযোগ থাকে, তেমনি সুযোগ হারানোর আফসোসও থাকে। রমজান মাসও ঠিক তেমনই। জিবরাইল (আ.) দোয়া করেছেন এবং নবীজি ﷺ ‍‍`আমিন‍‍` বলেছেন সেই ব্যক্তির জন্য যে রমজান পেল অথচ নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। যে ব্যক্তি এত বিশাল অফার পেয়েও অলসতায় দিন কাটাল, তার চেয়ে বড় হতভাগা আর কেউ নেই। রমজানের আসল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ অর্জন করা। আসুন, আমরা এই রমজানে আল্লাহর অফারের সুযোগ গ্রহণ করি এবং আমাদের আমলনামাকে সওয়াব দ্বারা ভারী করে তুলি।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

কোরআন বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!