বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

সুখিয়া ভ্যালি

মেঘের রাজ্যে পাহাড় ও নদীর মিতালী: সুখিয়া ভ্যালি ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ গাইড

উম্মাহ কণ্ঠ ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
মেঘের রাজ্যে পাহাড় ও নদীর মিতালী: সুখিয়া ভ্যালি ভ্রমণের পূর্ণাঙ্গ গাইড

সুখিয়া ভ্যালির মনোরম দৃশ্য।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলার দিগন্তজোড়া পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত সুখিয়া ভ্যালি বর্তমানে এক উদীয়মান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই স্থানটি মূলত পাহাড় এবং নদীর এক অনন্য মেলবন্ধন। এখান থেকে সকালের স্নিগ্ধ সূর্যোদয় এবং বিকেলের মায়াবী সূর্যাস্ত পর্যটকদের দারুণভাবে বিমোহিত করে। ভ্যালির চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা মাতামুহুরী নদীর সর্পিল গতিপথ এই জায়গার সৌন্দর্যকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যারা যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে প্রকৃতির একদম কাছাকাছি যেতে চান, তাদের জন্য সুখিয়া ভ্যালি একটি আদর্শ গন্তব্য হতে পারে।

সুখিয়া ভ্যালির মূল আকর্ষণ হলো পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। এই টাওয়ার থেকে একদিকে মাতামুহুরী নদী এবং অন্যদিকে সুখিয়া ও দুখিয়া পাহাড়ের বিশালতা চোখে পড়ে। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্য এখানে রয়েছে হিল হাইকিং এবং ট্র্যাকিংয়ের সুব্যবস্থা। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরে ওঠার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এখানে তাবু খাটিয়ে ক্যাম্পিং করারও সুযোগ রয়েছে। এছাড়া যারা নদীপথে ভ্রমণ পছন্দ করেন, তারা মাতামুহুরী নদী থেকে নৌকা ভাড়া করে ঘুরে দেখতে পারেন সাদা পাহাড়, মিনঝিরি পাড়া এবং দুখিয়া পাহাড়ের মতো আকর্ষণীয় স্পটগুলো। লামার জনপ্রিয় মিরিঞ্জা ভ্যালির সাথে এর তুলনা চললেও এর শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ একে অনন্য করে তুলেছে।

সুখিয়া ভ্যালিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ ও রোমাঞ্চকর। রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি আলীকদমের বাসে করে লামা আসা যায়। এছাড়া কক্সবাজারগামী বাসে চকরিয়া নেমে সেখান থেকে জীপ, চান্দের গাড়ি বা সিএনজিতে করে লামা বাস টার্মিনাল পৌঁছানো সম্ভব। ঢাকা থেকে চকরিয়া পর্যন্ত এসি বা নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৮৬০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। চকরিয়া থেকে লামা যাওয়ার জন্য জনপ্রতি ভাড়া পড়ে ৭০ থেকে ১০০ টাকা। এরপর লামা বাস টার্মিনাল থেকে খুব সহজেই অটোতে করে মাত্র ৩০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি সুখিয়া ভ্যালিতে পৌঁছানো যায়। চট্টগ্রাম থেকে যারা আসতে চান, তারা নতুন ব্রিজ বাস স্ট্যান্ড থেকে চকরিয়া হয়ে একই পথে আসতে পারেন।

পর্যটকদের থাকার জন্য সুখিয়া ভ্যালিতে বর্তমানে বেশ কিছু ইকো-রিসোর্ট ও জুম ঘর গড়ে উঠেছে। স্থানীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় তৈরি এই জুম ঘরগুলোতে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে ৬ থেকে ১০ জন পর্যন্ত অনায়াসে থাকতে পারেন। যারা কিছুটা আরামদায়ক ও প্রিমিয়াম রুম খুঁজছেন, তাদের জন্য ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচে ভালো মানের কটেজ রয়েছে। এছাড়া অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য মাত্র ২৫০-৩০০ টাকায় তাবুতে রাত কাটানোর সুযোগও রয়েছে। জনপ্রিয় রিসোর্টগুলোর মধ্যে সুখিয়া ভ্যালি রিসোর্ট, রিভারভিউ ইকো রিসোর্ট, চান্দের পাহাড় অ্যাডভেঞ্চার রিসোর্ট এবং ক্যপ্রাং ইকো রিসোর্ট উল্লেখযোগ্য। পর্যটন মৌসুমে বা ছুটির দিনে ভিড় এড়াতে আগেভাগে বুকিং দিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে এই ভ্যালির রিসোর্টগুলোতে প্যাকেজ সিস্টেম চালু রয়েছে। সাধারণত ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকার প্যাকেজে সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। পাহাড়ি মুরগি, জুমের সবজি এবং রাতে বারবিকিউর আয়োজন পর্যটকদের ভ্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। তবে মনে রাখা জরুরি যে, লামা বাজারে সেনাবাহিনী চেকপোস্ট থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সঙ্গে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রাখতে হবে। পাহাড়ি পথে হাঁটার জন্য ভালো গ্রিপের জুতা এবং নদী ভ্রমণের জন্য লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা নিরাপদ। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং কোনোভাবেই পরিবেশ নোংরা করা যাবে না।

উম্মাহ কণ্ঠ

Side banner

ভ্রমণ বিভাগের আরো খবর

banner
Link copied!