ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন বিমান হামলায় আরও অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের একটি কমিউনিটি কিচেন বা ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে ওই মানবিক সহায়তা কেন্দ্রটিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং নিহতদের মধ্যে তিনজনই ছিলেন সেখানে কর্মরত মানবিক সহায়তা কর্মী।
হামাস এই ঘটনাকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চলমান সহিংসতার অংশ এবং একটি ইচ্ছাকৃত যুদ্ধাপরাধ বলে আখ্যা দিয়েছে।
টানা কয়েক মাস ধরে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় এই সর্বশেষ বিমান হামলার ঘটনাটি ঘটল। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা বর্তমানে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এই নির্দিষ্ট ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে সর্বশেষ বিমান হামলার ঘটনাটি তারা খতিয়ে দেখছে এবং বিষয়টি বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে তদন্তাধীন রয়েছে বলে তেল আবিবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগের দিন অর্থাৎ গত রোববারও পৃথক ইসরায়েলি সামরিক হামলায় আরও তিনজন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নিহতের ঘটনা বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগের জন্ম দিলেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলমান ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পুরো অঞ্চলের চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মীদের ওপর এই আঘাত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমকে আরও মারাত্মক সংকটের মুখে ফেলেছে।
