গরমের দিনে অতিরিক্ত ঘাম ও ধুলাবালির কারণে দৈনন্দিন কাপড় ধোয়ার পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেড়ে যায়। এই ঝামেলা এড়াতে আধুনিক গৃহস্থালিতে ওয়াশিং মেশিনের ব্যবহার এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারেই দেখা যায়। তবে অনেকেই মনে করেন এই যন্ত্রটি চালালে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সঠিকভাবে নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ওয়াশিং মেশিনে বিদ্যুৎ খরচ অত্যন্ত সীমিত রাখা সম্ভব।একটি সাধারণ ওয়াশ সাইকেল সম্পন্ন হতে সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ওয়াশিং মেশিন তার ক্ষমতা ভেদে ৩০০ ওয়াট থেকে শুরু করে ২০০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। সহজ হিসাবে, ১০০০ ওয়াটের একটি মেশিন যদি একটানা এক ঘণ্টা চলে, তবে ঠিক এক ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। সেই অনুযায়ী একটি সাধারণ ওয়াশ সাইকেলে গড়ে ০.৩ থেকে ১.৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যয় হতে পারে। দেশের বর্তমান ট্যারিফ অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম যদি গড়ে ৮ টাকা ধরা হয়, তবে একবার সম্পূর্ণ কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল আসে মাত্র ২ থেকে ১২ টাকার মধ্যে।
মেশিনের ধরনও এই ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। ফ্রন্ট লোড মেশিনগুলো টপ লোডের তুলনায় পানি ও বিদ্যুৎ—উভয়ই অনেক কম খরচ করে। মাস শেষে বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অল্প অল্প কাপড় বারবার না ধুয়ে একসঙ্গে ফুল লোডে ধোয়া এবং হালকা ময়লা কাপড়ের জন্য কুইক ওয়াশ মোড ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া কোনো জরুরি প্রয়োজন না থাকলে পানির হিটার অপশনটি বন্ধ রাখলে খরচ অনেকটাই কমে যায়। নতুন মেশিন কেনার সময় সর্বদা ৫-স্টার এনার্জি রেটিং দেখে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
