গ্রীষ্মের তীব্র দাপটে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পেটের নানাবিধ সমস্যা ও ফুড পয়জনিংয়ের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেড়ে যায়। অনেকে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরেও পেটের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগে থাকেন, যার প্রধান কারণ মূলত ত্রুটিপূর্ণ খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি। গরমের দিনে বায়ুমণ্ডলের উচ্চ তাপমাত্রার কারণে যেকোনো খাদ্যদ্রব্য খুব দ্রুত পচে যায় এবং এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে অনেকেই রান্না করা বা কাঁচা খাদ্যদ্রব্য ফ্রিজে রেখে দেন, তবে সঠিক নিয়ম না জানলে ফ্রিজের ভেতরেও মারাত্মক রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা গ্রীষ্মকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ এবং মারাত্মক ভুলটি হয় কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখার মাধ্যমে। কাঁচা মাছ, মাংস কিংবা ডিমের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি থাকে, যা খুব সহজেই পাশে রাখা রান্না করা খাবার কিংবা তাজা শাকসবজি ও ফলের মধ্যে স্থানান্তরিত হতে পারে। এই ধরনের ক্রস-কন্টামিনেশন বা আন্তঃসংক্রমণ রোধ করতে কাঁচা ও রান্না করা খাবার সর্বদা ফ্রিজের আলাদা আলাদা স্তরে এবং সম্পূর্ণ এয়ারটাইট বা বাযুরোধী কৌটোর ভেতরে সংরক্ষণ করা উচিত। এ Scholarদের মতে, গ্রীষ্মকালে ফ্রিজের ভেতরের আদর্শ তাপমাত্রা সবসময় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা বাধ্যতামূলক, কারণ তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে জীবাণুর বংশবৃদ্ধি নাটকীয়ভাবে ত্বরান্বিত হয়।
খাদ্য সুরক্ষার আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিয়মিত বিরতিতে ফ্রিজ পরিষ্কার ও ডিফ্রস্ট করা। প্রতি দুই সপ্তাহে অন্তত একবার ফ্রিজের ভেতরের প্রতিটি তাক ভালো করে জীবাণুমুক্ত করা উচিত, কারণ ডিপ ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমে থাকলে ঠাণ্ডা বাতাস সর্বত্র সমানভাবে প্রবাহিত হতে পারে না। ফলে ফ্রিজের কিছু অংশে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার পথ সুগম হয়। কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস বর্জন করে তা ফ্রিজের নির্দিষ্ট বক্সে রাখা এবং সম্পূর্ণ সেদ্ধ করে খাওয়া উচিত। সচেতনতার সঙ্গে এই সহজ অভ্যাসগুলো মেনে চললে গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও ফ্রিজের খাবার সম্পূর্ণ নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত রাখা সম্ভব।
