রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ ও হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন তথ্য

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৭, ২০২৬, ০১:০৬ এএম

কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ ও হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন তথ্য

শরীর অবয়বে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হৃদরোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে দীর্ঘকাল ধরে মনে করা হয়। এই কারণে রক্তে ফ্যাট বা চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীদের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে হৃদরোগের আশঙ্কা কমাতে বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত স্টেটিনস জাতীয় কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ দেওয়ার একটি প্রতিষ্ঠিত ও প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।

কিন্তু নতুন একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা এই প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির সার্বিক কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

আয়ারল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ‘আরসিএসআই ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস’ সম্প্রতি এই চমকপ্রদ গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘জামা ইন্টার্নাল মেডিসিন’-এ এই নতুন প্রতিবেদনটি বিস্তারিতভাবে ছাপা হয়েছে। পূর্ববর্তী বেশিরভাগ গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল যে স্টেটিনস ব্যবহারের ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায় এবং এই কারণে অনেক উন্নত দেশে এর ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বর্তমান গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখেছেন যে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ প্রয়োগ করলেই হৃদরোগের আশঙ্কা নিশ্চিতভাবে কমে যাচ্ছে— এমন কথা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

গবেষকদের তথ্যমতে, এই জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের পর সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের ইতিবাচক লক্ষণ বা সুনির্দিষ্ট ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। বরং ব্যক্তিভেদে এক একজনের শরীরে এই ওষুধের প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। বহু বছর ধরে চলে আসা কোলেস্টেরলের ওষুধ খেয়ে হার্টের রোগ প্রতিরোধের এই চেনা পদ্ধতির কার্যকারিতা এখন গভীর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মুখে পড়েছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও স্বচ্ছ ও চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা গবেষকেরা।

banner
Link copied!