হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি `স্টার ওয়ার্স` দীর্ঘ সাত বছর পর পুনরায় সিনেমা হলের বড় পর্দায় ফিরছে। চলতি সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই সিরিজের নতুন সিনেমা `দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু`। তবে মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে বক্স অফিসে এক চরম হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে, যা এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাসে সবচেয়ে কম উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড গড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাক-মুক্তি ট্র্যাকিং অনুযায়ী, প্রথম সপ্তাহে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে মাত্র ৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে।
এই সম্ভাব্য ধস মূলত গত কয়েক বছরে স্টার ওয়ার্স মহাবিশ্ব নিয়ে দর্শকদের অতি-সংপৃক্ততা এবং আগ্রহ কমে যাওয়ারই ইঙ্গিত। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত `দ্য রাইজ অব স্কাইওয়াকার` বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়নের বেশি আয় করলেও তা ছিল আগের পর্বগুলোর তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এরপর থেকেই রূপালি পর্দা থেকে দীর্ঘ বিরতি নেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লুকাসফিল্ম। ২০১২ সালে চার বিলিয়ন ডলারে লুকাসফিল্ম কিনে নেওয়া প্যারেন্ট কোম্পানি ডিজনি তখন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ডিজনি প্লাসের জন্য একের পর এক টেলিভিশন সিরিজ নির্মাণে মনোযোগ দেয়।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে `দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান` সিরিজটি শুরুতে দারুণ জনপ্রিয়তা পেলেও পরবর্তীতে অতিরিক্ত সিরিজের ভিড়ে দর্শকরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুক্তি পাওয়া `স্কেলিটন ক্রু` রেটিংয়ের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করেছে এবং `দ্য অ্যাকোলাইট` সিরিজটি মাত্র এক সিজন পরেই বাতিল করতে বাধ্য হয় ডিজনি। অনেক দর্শক ও সমালোচক মনে করছেন, স্টার ওয়ার্সের গল্পগুলো এখন আর বিনোদন দেওয়ার বদলে এক ধরণের বাধ্যতামূলক বাড়ির কাজের মতো ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এত বেশি সিরিজ দেখতে হচ্ছে যে সাধারণ দর্শকরা এর মূল আকর্ষণ হারিয়ে ফেলছেন।
বর্তমান সিনেমাটি মূলত ওটিটি সিরিজের একটি স্পিন-অফ সংস্করণ, যা পরিচালনা করেছেন জন ফাভরিউ। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন পেড্রো প্যাসকেল। ছবিটিতে তার বাউন্টি হান্টার চরিত্র দিন জারিন এবং তার ছোট সঙ্গী গ্রোগু বা `বেবি ইয়োডা`-এর নতুন অ্যাডভেঞ্চার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বক্স অফিস বিশ্লেষকরা বলছেন, ওটিটির দর্শকদের আবার সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনার এই জুয়া ডিজনির জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে। এর আগে ২০১৮ সালের একক সিনেমা `সোলো: আ স্টার ওয়ার্স স্টোরি` বক্স অফিসে চরম ব্যর্থ হয়েছিল।
ডিজনির জন্য এই সিনেমার সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই স্টার ওয়ার্সের পরবর্তী নতুন সিনেমাটিক যুগ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ট্র্যাকিং ডেটা যদি সত্যি হয়, তবে এটি এই মহাজাগতিক কাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল সূচনা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে বাঁচাতে হলে এখন ডিজনির উচিত সংখ্যার চেয়ে কন্টেন্টের মানের দিকে বেশি নজর দেওয়া। দর্শক যে অতিরিক্ত ওটিটি সিরিজের ভিড়ে স্টার ওয়ার্স থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, এই সম্ভাব্য ব্যবসায়িক ধস তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
