সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জমি ফিরে পেতে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মামলা লড়ছেন কুদ্দুস বয়াতি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৭, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

জমি ফিরে পেতে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মামলা লড়ছেন কুদ্দুস বয়াতি

ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোণায় নিজের কেনা পৈতৃক ও বৈধ জমি ফিরে পেতে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় অনবরত দৌড়াচ্ছেন দেশের লোকগানের অত্যন্ত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন যে তাঁর কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমিটি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মানুষ ভুয়া দলিল বানিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায় ও জোরপূর্বক উপায়ে দখল করে নিয়েছে। জমির মূল মালিকানার আসল কাগজপত্র এবং সরকারি খাজনাসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে হালনাগাদ করা অবস্থায় শুরু থেকেই তাঁর নিজের নামে রয়েছে।

কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ সেখানে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করেছে।

তিনি বিস্তারিত উল্লেখ করে জানান, প্রায় সাত বছর আগে তিনি যখন আকস্মিক ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী পড়েছিলেন, তখন স্থানীয় কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ অন্যায়ভাবে এই জমির ওপর নজর দেয়। তারা জাল দলিল তৈরি করে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সেখানে রাতারাতি ঘরবাড়ি তৈরি করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে, অথচ এর আগে পর্যন্ত জমির প্রকৃত দখল সম্পূর্ণভাবে কুদ্দুস বয়াতি নিজের কাছেই রেখেছিলেন। দলিল জালিয়াতির এই জঘন্য ঘটনা সামনে আসার পর মামলাটি দেশের প্রচলিত আদালতে গড়ায়, যা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলমান রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি জটিলতার কারণে লোকসংগীতের এই গুণী শিল্পীকে চরম মানসিক ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বিতর্কিত এই দখলদারদের সরাসরি কোনো বড় রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই বলে তিনি স্পষ্টভাবে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে কুদ্দুস বয়াতি আক্ষেপের সুরে বলেন যে আমাদের দেশে জমির মামলা এমন এক জটিল বিষয় যেখানে দাদা, বাবা ও ছেলে মারা গেলেও দেওয়ানি মামলা সহজে শেষ হতে চায় না। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী গত এপ্রিল মাসের ২২ তারিখে এই মামলার একটি চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করার কথা আদালতের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ছিল। কিন্তু যে ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি জমিটি কিনেছিলেন, সেই মূল বাদী সম্প্রতি আকস্মিক মৃত্যুবরণ করায় আদালত মামলার রায়দান প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রেখেছেন।

পূর্বে দলিল জালিয়াতির এই লিখিত অভিযোগ ওঠার পর বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষকে বিতর্কিত ওই জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার এবং নতুন করে কোনো স্থাপনা তৈরি না করার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। কিন্তু বয়াতির অনুপস্থিতি ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে জোরপূর্বক জেঁকে বসে আইন অমান্য করেছে। লোকসংগীতের এই কিংবদন্তি শিল্পী এখন আদালতের কাছে যাবতীয় অকাট্য প্রমাণাদি মূল্যায়ন করে তাঁর পক্ষে দ্রুত একটি সুষ্ঠু রায় এবং এই দীর্ঘস্থায়ী আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি দাবি করছেন।

banner
Link copied!