রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৭, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (কোর্ট অব আরবিট্রেশন) দেওয়া সর্বশেষ রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অকার্যকর আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। গত ১৫ মে আদালতটি জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর জলাধারে পানি সংরক্ষণের সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা বা ‍‍`ম্যাক্সিমাম পন্ডেজ‍‍` নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রায় প্রদান করে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নয়া দিল্লির পক্ষ থেকে এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রায় অমান্য করার স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভারত এই আদালত গঠনের পুরো প্রক্রিয়াকে শুরু থেকেই বেআইনি মনে করে।

শনিবার (১৬ মে) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে জানান, এই সালিশি আদালত গঠন সিন্ধু পানিচুক্তির মূল কাঠামোর পরিপন্থী হওয়ায় এর কোনো সিদ্ধান্ত ভারতের ওপর কার্যকর হবে না। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাকিস্তানের দিকে যাওয়া সিন্ধু নদের পানি প্রবাহ একতরফাভাবে স্থগিত রাখার নীতিতে অটল থাকবে নয়াদিল্লি। এর আগে ভারত শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক এই চুক্তিটি একতরফাভাবে স্থগিত করেছিল ভারত। নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান তার ভূখণ্ড থেকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত সালিশি আদালত একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত করার এই পদক্ষেপকে বেআইনি ঘোষণা করলেও ভারত তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির অধীনে সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর পানির সিংহভাগ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। চুক্তি স্থগিতের পর ভারত এখন পাকিস্তানের দিকে প্রবাহিত হওয়া পানির একটি বড় অংশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে জম্মু ও কাশ্মীরের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

ভারতের এই একতরফা পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ও ট্রাইব্যুনাল বয়কটের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক প্রতিবেশীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। বর্তমানে এই সংকট নিরসনে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সচল নেই।

banner
Link copied!