যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম এবং ওয়েস স্ট্রিটিং লেবার পার্টির পরবর্তী নেতৃত্ব পাওয়ার লড়াইয়ে জয়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পুনরায় যোগদানের জন্য নতুন করে গণম্যান্ডেট চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) এক রাজনৈতিক বক্তৃতায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ব্রেক্সিটকে একটি `বিপর্যয়কর ভুল` হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ ইউরোপের সঙ্গেই জড়িত। অন্যদিকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে তিনিও দীর্ঘমেয়াদে দেশকে পুনরায় ইইউর সদস্য হিসেবে দেখতে চান।
এই কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ব্রেক্সিট বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
অ্যান্ডি বার্নহাম বর্তমানে মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাঁর সহযোগীরা জানিয়েছেন, বার্নহাম ব্রিটিশ জনগণের মূল গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে সম্মান করলেও ইইউতে ফেরার জন্য আগামী সাধারণ নির্বাচনের ইশতেহারে স্পষ্ট গণম্যান্ডেট নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে মনে করেন। ইউরোপীয় নীতির পাশাপাশি বার্নহাম দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক রাষ্ট্রীয়করণের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে বিগত চার দশকের অনিয়ন্ত্রিত বেসরকারীকরণ নীতি মৌলিক খাতগুলোর ওপর থেকে জনগণের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছে, তাই বিদ্যুৎ, আবাসন, পানি এবং পরিবহন খাতকে পুনরায় পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা উচিত।
লেবার পার্টির একটি প্রগতিশীল অংশের সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ওয়েস স্ট্রিটিং জানান, ২০২৬ সালের এই বিপজ্জনক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রুশ আগ্রাসন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য নীতি থেকে আত্মরক্ষার জন্য ইউরোপের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি। তবে লেবার নেতাদের এই ঘোষণা ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরাকে এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, লেবার পার্টি যখন পুরোনো ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে পুনরায় বিতর্ক তৈরিতে ব্যস্ত, তখন দেশ পরিচালনায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বার্নহামকে `উন্মুক্ত সীমান্তের বার্নহাম` বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং এই অবস্থান মেকারফিল্ডের ব্রেক্সিটপন্থী ভোটারদের সঙ্গে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা বলে দাবি করেছেন। লেবার পার্টির অভ্যন্তরেও এই নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দলের ব্যাকবেঞ্চ এমপি ড্যান কার্ডেন এবং জন ট্রিকেট মন্তব্য করেছেন যে ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন করে বিলাপ করা পরাজয়বাদী মানসিকতার লক্ষণ এবং সরকারের উচিত ব্রেক্সিটের মাধ্যমে অর্জিত সার্বভৌম গণতান্ত্রিক অধিকার ও নিজস্ব বৈদেশিক নীতিকে কাজে লাগানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া। একই সঙ্গে ব্লু লেবার গ্রুপের নেতারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব অর্থনীতি বর্তমানে স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই এখন দেশের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
