রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি জিকিরের অসীম ফজিলত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৭, ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি জিকিরের অসীম ফজিলত

ইসলামে এমন কিছু ইবাদত ও আমল রয়েছে যা সম্পাদন করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে, অথচ এর আধ্যাত্মিক ফজিলত ও সওয়াবের পরিধি অসীম। এমনই একটি অত্যন্ত সহজ কিন্তু শক্তিশালী জিকির হলো ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’। এর বাংলা অর্থ—‘আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তাঁরই প্রশংসা করছি।’ ইসলামের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও এই জিকিরটি মানুষের আমলনামাকে ভারী করতে এবং পাপ মোচনে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

রাসুলুল্লাহ (স.) এই ছোট বাক্যটিকে মহান আল্লাহর কাছে অন্যতম প্রিয় কথা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েতে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরেশতা কিংবা বান্দাদের জন্য যে কালামটি নির্বাচন করেছেন, তা হলো সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি (সহীহ মুসলিম, ২৭৩১)। মানবজীবনে চলতে ফিরতে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ছোট-বড় পাপ হয়ে থাকে। এই গুনাহগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই জিকিরটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (স.) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার এই জিকিরটি পাঠ করবে, তার গুনাহ যদি সমুদ্রের ফেনা পরিমাণও হয়, তবুও তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে (সহীহ আল-বুখারী, ৬৪০৫)।

আমলনামা ভারী করার ক্ষেত্রে এই কালিমার গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (স.) অন্য একটি বিখ্যাত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে দুটি কালেমা রয়েছে যা মুখে উচ্চারণ করা অত্যন্ত সহজ, কিন্তু কিয়ামতের দিন মিজানের পাল্লায় অনেক ভারী হবে এবং দয়াময় আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয়; যার একটি হলো সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি (সহীহ আল-বুখারী, ৬৬৮২)। পরকালের কঠিনতম দিনে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্যও এই আমলটি অনন্য। যে ব্যক্তি সকাল এবং সন্ধ্যায় নিয়মিত ১০০ বার এই কালেমা পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে আর কেউ আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে পারবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে এর সমান বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করেছে (সহীহ মুসলিম, ২৬৯২)।

এই জিকিরটি পাঠ করার জন্য বিশেষ কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা ওজুর আবশ্যকতা নেই। একজন মুসলিম তার কর্মব্যস্ততার মাঝে, চলাফেরার সময় কিংবা অবসরে যেকোনো অবস্থায় একাগ্রতার সঙ্গে এটি পড়তে পারেন। অর্থ অনুধাবন করে অন্তরের গভীর থেকে পাঠ করলে এর সওয়াব ও কার্যকারিতা পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ পায়। দৈনন্দিন জীবনে এই আমলটিকে অভ্যাসে পরিণত করার মাধ্যমে গুনাহ মোচনের একটি অমূল্য সুযোগ তৈরি হয়।

banner
Link copied!