চোখের নিচের স্পর্শকাতর ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ডার্ক সার্কেল বা কালো দাগ দূর করতে আইক্রিম একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রসাধন সামগ্রী। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অনেক দাম দিয়ে কেনা আইক্রিমটি ব্যবহারের পর চোখের চারপাশে জ্বালাপোড়া শুরু হয় অথবা ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। চোখের চারপাশের চামড়া শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি পাতলা ও সেনসিটিভ হওয়ায় সব ধরনের ব্র্যান্ড বা উপাদান সবার ত্বকে সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে।
অনেকেই তখন এই দামী প্রসাধনটি অবহেলায় ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে ফেলে রাখেন।
কিন্তু এই আইক্রিম ফেলে না দিয়ে শরীরের অন্যান্য অবহেলিত অংশের সতেজতা ফেরাতে চমৎকারভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষ করে সাবান দিয়ে বার বার হাত ধোয়া বা গৃহস্থালির কাজের কারণে যাদের হাতের চামড়া রুক্ষ ও খসখসে হয়ে পড়ে, তারা রাতে ঘুমানোর আগে হাত ও নখের চারপাশে আইক্রিম মেখে নিতে পারেন। এর শক্তিশালী হাইড্রেটিং উপাদান নখের চারপাশের মরা চামড়া দূর করে হাতকে নরম ও মসৃণ করে তোলে। একইভাবে ঘাড় এবং গলার ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে বার্ধক্যের ছাপ ফেলে, যেখানে এই ক্রিমের আর্দ্রতা সারা দিন ত্বককে সজীব রাখতে সাহায্য করে।
শরীরের সবচেয়ে অবহেলিত দুটি অংশ হলো হাঁটু এবং কনুই, যেখানে প্রায়ই কালচে ছোপ বা জেদি কালো দাগ পড়তে দেখা যায়। আইক্রিমে থাকা বিশেষ পুষ্টি উপাদান ও লাইটনিং এজেন্ট এই কালচেভাব দূর করে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া শীত বা গরম—যেকোনো ঋতুতে গোড়ালি ফাটার সমস্যায় যারা ভুগছেন, তারা ফাটা পায়ের ওপর এবং পায়ের আঙুলের চারপাশে এই ক্রিম লাগাতে পারেন। এটি ত্বকের গভীরের ক্ষত দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে এবং গোড়ালির চামড়াকে নরম রাখে।
ত্বকের যেকোনো প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারের আগে তা নিজের ত্বকের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চোখের জন্য তৈরি এই বিশেষ ক্রিম শরীরের অন্যান্য অংশে ইতিবাচক সাড়া দিলেও যেকোনো নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো। সামান্য অসাবধানতার কারণে দামী উপাদান নষ্ট না করে এর সঠিক বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
