ক্যানসার একটি প্রাণঘাতী ও অত্যন্ত জটিল রোগ হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে রোগীরা সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারছেন। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে ক্যানসার কোষ ধ্বংস এবং এর বিস্তার রোধে কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং হরমোন থেরাপির মতো বিভিন্ন ধরনের শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে প্রতিটি ক্যানসারের ধরন আলাদা হওয়ায় ব্যক্তিভেদে ওষুধের কার্যকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।
ওষুধ শরীরে সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা বোঝার জন্য নিয়মিত ফলো-আপ পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
অনকোলজিস্ট বা ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা মূলত মেডিকেল ইমেজিং ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ওষুধের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে থাকেন। সিটি স্ক্যান, এমআরআই কিংবা পিইটি স্ক্যানের মাধ্যমে দেখা হয় ক্যানসার আক্রান্ত মূল টিউমার বা চাকাটি আগের চেয়ে সংকুচিত হয়েছে কি না। যদি টিউমারের আকার ছোট হয়, তবে বুঝতে হবে থেরাপি ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। এর পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসার মার্কার যেমন—সিএ ১২৫ (CA 125), পিএসএ (PSA) বা সিইএ (CEA)-এর মাত্রা কমেছে কি না তা যাচাই করা হয়, যা ওষুধ কাজ করার অন্যতম বড় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ।
শারীরিক উপসর্গের উন্নতিও ওষুধ কাজ করার একটি বড় লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্যানসারের কারণে তৈরি হওয়া তীব্র ব্যথা, দীর্ঘদিনের ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট ধীরে ধীরে কমে আসা এবং রোগীর স্বাভাবিক ক্ষুধা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে কেমোথেরাপির কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন, শ্বেতকণিকা বা অণুচক্রিকার মাত্রা সাময়িকভাবে কমে গেলেও ওষুধ কার্যকর হলে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। চিকিৎসার ফলাফলকে চিকিৎসকরা সাধারণত সম্পূর্ণ রেসপন্স (টিউমার অদৃশ্য হওয়া), আংশিক রেসপন্স (টিউমার ছোট হওয়া) এবং স্থিতিশীল অবস্থা হিসেবে ভাগ করেন।
অনেকে মনে করেন চুল পড়া, বমি ভাব বা ক্লান্তির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকলে ওষুধ কাজ করছে না, যা চিকিৎসকদের মতে একটি ভুল ধারণা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকা বা না থাকার সঙ্গে ওষুধের কার্যকারিতার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে বর্তমানে পেমব্রোলিজুম্যাব, নিভোলুম্যাব এবং ট্রাস্টুজুম্যাবের মতো আধুনিক ইনজেকশন ক্যানসারের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। যেকোনো ক্যানসারের ওষুধ অবশ্যই বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্টের কঠোর তত্ত্বাবধানে এবং নিয়মিত ফলো-আপ টেস্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত।
