শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঙ্গোয় ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব: প্রতিবেশী দেশগুলোতে সতর্কতা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৫, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

ঙ্গোয় ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব: প্রতিবেশী দেশগুলোতে সতর্কতা

Ai - ছবি

আফ্রিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্ব ইতিউরি প্রদেশে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেছে। আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ২৪৬ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর মধ্যে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণের হার মূলত স্বর্ণখনি সমৃদ্ধ মংওয়ালু এবং রামপারা নামক দুটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মৃতদের বেশিরভাগই এই দুই স্বর্ণখনি এলাকার বাসিন্দা।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তারা কঙ্গো সরকারসহ প্রতিবেশী উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় এই প্রাদুর্ভাব রুখতে সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি যেন কোনোভাবেই সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেই এখন মূল নজর দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যমতে, ১৯৭৬ সালে বর্তমান কঙ্গো প্রজাতন্ত্রেই প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। দেশটিতে এটি ১৭তম প্রাদুর্ভাব। শরীরের কাটা অংশ বা সরাসরি শারীরিক তরলের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়, যা পরবর্তী সময়ে মারাত্মক রক্তপাত এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং গলা ব্যথা। এরপর আক্রান্ত রোগীর বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি এবং অভ্যন্তরীণ রক্তপাত শুরু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ইবোলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক না থাকায় এতে আক্রান্তদের মৃত্যুর গড় হার প্রায় ৫০ শতাংশ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমানে আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি আফ্রিকা ও রয়টার্স

banner
Link copied!