বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাব: পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ডব্লিউএইচও

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাব: পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ডব্লিউএইচও

একটি প্রমোদতরি বা ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ৩ জন যাত্রীর মৃত্যু হলেও বিশ্বব্যাপী এর বড় কোনো প্রাদুর্ভাবের লক্ষণ এই মুহূর্তে নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস সতর্ক করে বলেছেন, ভাইরাসের দীর্ঘ সুপ্তাবস্থার কারণে আগামী সপ্তাহগুলোতে নতুন করে আক্রান্তের খবর পাওয়া যেতে পারে এবং পরিস্থিতির যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।

আক্রান্ত ক্রুজ শিপ ‘এমভি হন্ডিয়াস’ থেকে শেষ যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার পর মঙ্গলবার স্পেনের মাদ্রিদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও প্রধান এসব তথ্য জানান। গত ১০ মে তেনেরিফ বিমানবন্দর থেকে শেষ ২৮ জন যাত্রীকে নিয়ে দুটি ফ্লাইট নেদারল্যান্ডসের আইন্দহোভেনে পৌঁছায়। এর আগে জাহাজটি থেকে সরানো কয়েকশ যাত্রীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯ জনের শরীরে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডব্লিউএইচও। এছাড়া আরও দুজন সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রে থাকা এমভি হন্ডিয়াস বর্তমানে উত্তর সাগরের ডাচ বন্দর রটারডামের দিকে যাত্রা করছে। এটি আগামী ১৭ মে সেখানে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওশানওয়াইড এক্সপেডিশন জানিয়েছে, বন্দরে পৌঁছানোর পর জাহাজটিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত বা স্যানিটাইজ করা হবে। তবে জাহাজের যাত্রীদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ইতিমধ্যে নেদারল্যান্ডসের একটি হাসপাতালে ১২ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। তারা এক রোগীর নমুনা পরীক্ষার সময় যথাযথ প্রোটোকল অনুসরণ না করায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে একজন ফরাসি নারীর অবস্থা সংকটাপন্ন। প্যারিসের একটি হাসপাতালে তাকে কৃত্রিম ফুসফুসের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি ভাইরাসের সবচেয়ে মারাত্মক ধরণ বা তীব্র রূপটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে স্পেনে আক্রান্ত এক যাত্রীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তার শরীরে মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে। ইতালিতেও একজন সন্দেহভাজন রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, যিনি ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক নারীর সাথে একই বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর বা বন্য প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। তবে আন্দিজ স্ট্রেইন নামক বিশেষ একটি ধরণ মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। ডব্লিউএইচও ধারণা করছে, এমভি হন্ডিয়াসের যাত্রীরা দক্ষিণ আমেরিকায় থাকার সময় এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এই ভাইরাসের সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড জ্বর, ক্লান্তি, পেশিব্যথা, পাকস্থলীতে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট। সংক্রমণের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে দীর্ঘ সময় নিতে পারে বলে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা এই দীর্ঘ সুপ্তাবস্থা নিয়ে চিন্তিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে গণ-সংক্রমণ বা বড় কোনো মহামারির ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশটিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে ২২ জন ‘কন্টাক্ট কেস’ বা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদিকে ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও একজন করে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও প্রধান জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য বিভাগের কাজ চলবে।

banner
Link copied!