বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

বিতর্কিত নির্বাচনের পর আবারও উগান্ডার ক্ষমতায় ইয়োওয়েরি মুসেভেনি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১৩, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

বিতর্কিত নির্বাচনের পর আবারও উগান্ডার ক্ষমতায় ইয়োওয়েরি মুসেভেনি

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনি মঙ্গলবার সপ্তম মেয়াদে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আফ্রিকার অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী শাসক হিসেবে তার ৪০ বছরের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘায়িত করলেন। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর মঙ্গলবার রাজধানী কাম্পালার কোলোলো ইন্ডিপেন্ডেন্স গ্রাউন্ডসে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৮১ বছর বয়সী এই নেতা শপথ নেন। রয়টার্স ও আল জাজিরা জানিয়েছে, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং মুসেভেনি একটি সাঁজোয়া যানে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি শুরু থেকেই নানা বিতর্কে ঘেরা ছিল। নির্বাচনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। উগান্ডার নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মুসেভেনি ৭১ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ববি ওয়াইন পেয়েছেন ২৪ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট। ববি ওয়াইন এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচনের পর থেকে উগান্ডার কর্তৃপক্ষ বিরোধী দল ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর হামলা জোরদার করেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের অনেক সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দুজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিখোঁজ রয়েছেন। ববি ওয়াইনের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও নিরাপত্তা বাহিনী বারবার বাধা দিয়েছে এবং সহিংসতায় অন্তত একজন সমর্থক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনের পর ববি ওয়াইন জানিয়েছিলেন যে তার বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল এবং তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।

ইয়োওয়েরি মুসেভেনি ১৯৮৬ সাল থেকে উগান্ডার ক্ষমতায় রয়েছেন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তিনি দুইবার উগান্ডার সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। তিনি সংবিধান থেকে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমাবদ্ধতা এবং বয়সের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা এক সময় বলেছিলেন যে আফ্রিকার প্রধান সমস্যা হলো এমন সব নেতারা যারা ক্ষমতায় আসার পর আর সরতে চান না। আজ তিনি নিজেই সেই দীর্ঘস্থায়ী শাসনের মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তবে অনেক উগান্ডান তাকে দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ১৯৬২ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর সৃষ্ট অরাজকতা অবসানের কৃতিত্ব দিয়ে থাকেন।

ভবিষ্যতে মুসেভেনির স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুসেভেনির ছেলে এবং উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মোজাই কাইনেরুগাবা পরবর্তী উত্তরসূরি হওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছেন। মুসেভেনির এই সপ্তম মেয়াদে ক্ষমতায় বসার বিষয়টি কেবল উগান্ডা নয়, বরং পুরো পূর্ব আফ্রিকার রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্ত্বেও মুসেভেনি তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে চলেছেন।

banner
Link copied!