মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাকায় ইতিহাস: পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম হোম টেস্ট জয় বাংলাদেশের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১২, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

ঢাকায় ইতিহাস: পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম হোম টেস্ট জয় বাংলাদেশের

ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে কয়েক দফা বিঘ্নিত এই রোমাঞ্চকর টেস্টের পঞ্চম দিনে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট জয়ের রেকর্ড থাকলেও দেশের মাটিতে এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য যা দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৬৮ রান। কিন্তু বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস। এক পর্যায়ে ৩ উইকেটে ১১৯ রান তুলে জয়ের আশা জাগিয়েছিল পাকিস্তান। তবে নাহিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা ৫ উইকেট শিকারের মুখে দ্রুত ধসে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। বিশেষ করে তার শেষ ৪.৫ ওভারের স্পেলে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার ম্যাচটিকে সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণের গতির ঝড় ও রিভার্স সুইং সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে পাকিস্তানি ব্যাটাররা।

পাকিস্তানের পক্ষে অভিষেক ম্যাচে লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন তরুণ আব্দুল্লাহ ফজল। তিনি ৬৬ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেছিলেন এবং সালমান আগার সাথে ৫১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন। সালমান ২৬ রান করে রানার শিকারে পরিণত হলে পাকিস্তান শিবিরে ধস নামে। শেষ সেশনে উইকেট পতনের মিছিলে তারা দ্রুত অলআউট হয়ে যায়। এর আগে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৭ রানের ওপর ভর করে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায়। শান্তর এই দায়িত্বশীল ব্যাটিংই মূলত পাকিস্তানকে বড় লক্ষ্য দিতে সহায়তা করেছিল।

এই জয়ের মাধ্যমে অধিনায়ক হিসেবে একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড স্পর্শ করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি মুশফিকুর রহিমের করা ৭টি টেস্ট জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তবে মুশফিকুর রহিমকে যেখানে এই সাতটি জয় পেতে ৩৪টি ম্যাচ নেতৃত্ব দিতে হয়েছিল, সেখানে শান্ত মাত্র ১৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েই এই রেকর্ডে ভাগ বসালেন। ম্যাচ শেষে শান্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন যে গত কয়েক মাস ধরে কঠোর পরিশ্রমের ফল আজ মাঠে দেখা গেছে। বিশেষ করে পেসারদের এমন পারফরম্যান্সে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল যে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে মিরপুরের এই জয় তার বড় প্রমাণ।

সামগ্রিকভাবে মিরপুর টেস্ট ছিল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এক স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই। বৃষ্টির বাধায় অনেকটা সময় নষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত ফলাফল বের হওয়া এবং বাংলাদেশের জয় পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। নাহিদ রানার ৫-৪০ ফিগারটি এই জয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ দল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে। আপাতত মিরপুরের এই ঐতিহাসিক সাফল্য টাইগার সমর্থকদের জন্য এক বড় উদযাপনের উপলক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

banner
Link copied!