টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে গত রাতে যে নাটকীয়তা দেখা গেল, তা ক্লাবটির ভক্তদের জন্য ছিল চরম উদ্বেগের। রেলিগেশনের হাত থেকে বাঁচার লড়াইয়ে লিডস ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয়েছিল স্পার্স। ম্যাচের এক পর্যায়ে ম্যাথিস টেলের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রবার্তো দে জার্বির শিষ্যদের। এই ড্রয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার লড়াই এখন আরও কঠিন হয়ে পড়ল। কোচ দে জার্বির চোখেমুখে ছিল স্পষ্ট হতাশা। রিচার্লিসনের সহজ সুযোগ মিস করা এবং শেষ মুহূর্তে টেলের করা এক মারাত্মক ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছে উত্তর লন্ডনের এই ক্লাবটিকে।
ম্যাচের শুরুটা টটেনহ্যামের জন্য আশাব্যঞ্জক ছিল। তরুণ প্রতিভা ম্যাথিস টেল এক দর্শনীয় স্ট্রাইকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন। কিন্তু সেই টেলই পরে নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হন। নিজের পেনাল্টি বক্সের ভেতর অপ্রয়োজনীয়ভাবে একটি বাইসাইকেল কিক নিতে গিয়ে তিনি লিডস অধিনায়ক ইথান আমপাডুর মাথায় আঘাত করেন। ভিএআর যাচাইয়ের পর রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন পেনাল্টি থেকে গোল করে লিডসকে সমতায় ফেরান। এর আগেও প্রথমার্ধে টেল নিজের বক্সে একটি ভুল পাস দিয়ে দলকে বিপদে ফেলেছিলেন, যা কেভিন ডানসোর দক্ষতায় রক্ষা পায়।
বর্তমানে রেলিগেশন লড়াইয়ের সমীকরণটি টটেনহ্যামের জন্য বেশ জটিল। ওয়েস্ট হ্যাম গত রবিবার আর্সেনালের কাছে হেরে যাওয়ায় স্পার্সের সামনে সুযোগ ছিল ৪ পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করার। কিন্তু লিডসের সঙ্গে ড্র করায় সেই ব্যবধান এখন মাত্র ২ পয়েন্ট। যদি আগামী রবিবার ওয়েস্ট হ্যাম নিউক্যাসলকে হারিয়ে দেয়, তবে ১৯ মে চেলসির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে টটেনহ্যাম আবারও অবনমন অঞ্চলে বা বটম থ্রি-তে নেমে যাবে। দে জার্বি স্বীকার করেছেন যে চাপের মুখে তার খেলোয়াড়রা ভুল করে ফেলেছেন। তবে তিনি ম্যাথিস টেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং একে তরুণ খেলোয়াড়ের শিক্ষা গ্রহণের অংশ হিসেবে দেখছেন।
এই ম্যাচে টটেনহ্যামের প্রাপ্তি বলতে গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির অসাধারণ পারফরম্যান্স। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে বাজে অভিজ্ঞতার পর এটি ছিল তার জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর রাত। বিশেষ করে শেষ মুহূর্তে শন লংস্টাফের নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে তিনি দলকে এক পয়েন্ট এনে দেন। কিনস্কির এই সেভগুলোই হয়তো মৌসুম শেষে স্পার্সকে রেলিগেশন থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। কোচ দে জার্বি তার গোলরক্ষকের প্রশংসা করতে ভোলেননি।
টটেনহ্যামের পরবর্তী দুই ম্যাচ চেলসি এবং এভারটনের বিপক্ষে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের মাঠে জয় না পাওয়ার প্রবণতা ক্লাবটির জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে স্পার্সের শেষ হোম উইন ছিল গত বছরের ডিসেম্বরে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে। এরপর থেকে দে জার্বির অধীনে তারা ব্রাইটন ও লিডসের সঙ্গে ড্র করেছে। জেমস ম্যাডিসন চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও দলকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিতে পারেননি। ফলে চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যাওয়ার লজ্জা এড়াতে শেষ দিনের লড়াই পর্যন্ত ক্লাবটিকে স্নায়ুচাপের মধ্যে থাকতে হবে।
