মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

সত্যের জয়: ভার্জিনিয়া জিওফ্রের বই পেল সর্বোচ্চ পুরস্কার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১২, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

সত্যের জয়: ভার্জিনিয়া জিওফ্রের বই পেল সর্বোচ্চ পুরস্কার

লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ ব্রিটিশ বুক অ্যাওয়ার্ডসে এ বছর শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে ভার্জিনিয়া জিওফ্রের মরণোত্তর আত্মজীবনী ‘নোবডিস গার্ল’ (Nobody’s Girl)। সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডনের গ্রোসভেনর হাউসে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বইটিকে ‘বছরের সেরা বই’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জেফরি এপস্টাইনের যৌন নিপীড়ন চক্রের অন্যতম প্রধান অভিযোগকারী হিসেবে পরিচিত ভার্জিনিয়ার এই বই প্রকাশের মাত্র ছয় মাস আগে তিনি আত্মহত্যা করেন। তার এই অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন উপস্থিতিতে পুরস্কারটি গ্রহণ করা হয়। বিচারকদের মতে, এই পুরস্কার কেবল একটি বইয়ের জন্য নয়, বরং সত্য বলার যে সাহস ভার্জিনিয়া দেখিয়েছেন, তার প্রতি এটি একটি পরম শ্রদ্ধা।

অ্যামি ওয়ালেসের সাথে সহ-লিখিত এই আত্মজীবনীতে ভার্জিনিয়া তার জীবনের অন্ধকার অধ্যায় এবং জেফরি এপস্টাইন ও গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের সাথে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় ভার্জিনিয়ার ভ্রাতৃবধূ আমান্ডা রবার্টস বলেন, “এই বইটি একজন সারভাইভারের কণ্ঠস্বরের শক্তি কতটুকু হতে পারে, তার এক বাস্তব প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ভার্জিনিয়া কেবল কয়েক মিলিয়ন মানুষকে অনুপ্রাণিতই করেননি, বরং তিনি বিশ্ববাসীকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বাধ্য করেছেন। ভার্জিনিয়ার ভাই স্কাই রবার্টসও এই প্রাপ্তিতে পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই বইটির প্রভাব কেবল সাহিত্যের জগতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। গত বছরের অক্টোবরে এটি প্রকাশিত হওয়ার পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়। যদিও অ্যান্ড্রু বরাবরই ভার্জিনিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন, কিন্তু এই বইয়ের তথ্য ও প্রমাণাদি শেষ পর্যন্ত রাজা তৃতীয় চার্লসকে তার ভাইয়ের রাজকীয় উপাধি ও সম্মাননা কেড়ে নিতে বাধ্য করে। অনুষ্ঠানের বিচারক ও ‘দ্য বুকসেলার’-এর সম্পাদক ফিলিপ জোন্স বলেন, “আমাদের বিজয়ীরা বই বাজারের সেই সেরা শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে, যারা সত্য বলতে পিছুপা হয় না।”

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয় লেখক সুজান কলিন্স। তার ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’-এর প্রিকুয়েল ‘সানরাইজ অন দ্য রিপিং’-এর জন্য তিনি চিলড্রেনস ফিকশন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জয় করেন। এছাড়া এমিলি হেনরি ‘গ্রেট বিগ বিউটিফুল লাইফ’-এর জন্য প্রথমবারের মতো রোমান্টিক ফিকশন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন। জনপ্রিয় গ্রাফিক নভেল ‘বানি ভার্সেস মাঙ্কি’-এর জন্য জেমি স্মার্টও শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পান। অনুষ্ঠানে প্রয়াত লেখিকা সোফি কিনসেলা, জোয়ানা ট্রলোপ এবং ডেম জিলি কুপারকে মরণোত্তর বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ভার্জিনিয়া জিওফ্রের পাশাপাশি সারাহ উইন-উইলিয়ামসকেও ‘ফ্রিডম টু পাবলিশ’ সম্মাননা দেওয়া হয়। ফেসবুকের পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখে সারাহ আলোচিত হয়েছিলেন, যদিও তার বই প্রচারের ক্ষেত্রে ফেসবুক তাকে বাধা দিয়েছিল। ব্রিটিশ বুক অ্যাওয়ার্ডসের এই মঞ্চ থেকে আজ সেই কণ্ঠস্বরগুলোকেই উদযাপন করা হলো, যাদের একসময় স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

banner
Link copied!