সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

২০২৬ বিশ্বকাপে চোখ: মেসি-রোনালদোর গোলক্ষুধা ও পরিসংখ্যান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১১, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপে চোখ: মেসি-রোনালদোর গোলক্ষুধা ও পরিসংখ্যান

২০২৬ বিশ্বকাপের দামামা যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ফুটবল বিশ্বের চিরকালীন আলোচনার কেন্দ্রে আবারও সেই দুই মহাতারকা—লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ লগ্নে এসেও এই দুই কিংবদন্তি যেভাবে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন, তাকে ফুটবল বিশ্লেষকরা ‘লাস্ট ডান্স’ হিসেবে অভিহিত করছেন। বয়সের ভারে যেখানে অনেক খেলোয়াড় বুট তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন, সেখানে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩৭ বছর বয়সী মেসি এখনও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মরিয়া। চলতি ২০২৬ ক্যালেন্ডার বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই ধ্রুবতারা ভিন্ন দুই মহাদেশে খেললেও গোলের নেশায় তারা এখনও সমান অপ্রতিরোধ্য এবং ভক্তদের উন্মাদনায় কোনো ভাটা পড়েনি।

সৌদি প্রো লিগে আল-নাসরের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মাঠে নামার পরিসংখ্যানে তিনি মেসিকে কিছুটা পেছনে ফেলেছেন। পর্তুগিজ সুপারস্টার ১৯ ম্যাচে ১৪টি গোল করে গোলের দিক থেকে এগিয়ে আছেন। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে দলীয় সাফল্যের পথে আল-নাসর কিছুটা হোঁচট খেলেও রোনালদো ভক্তদের জন্য বড় সুখবর হলো, দলটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর ফাইনালে পৌঁছেছে। সেখানে শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ জাপানের ক্লাব গাম্বা ওসাকা। এই বয়সেও রোনালদোর এমন শারীরিক সক্ষমতা এবং গোলের প্রতি ক্ষুধা প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল সংখ্যার জন্য খেলছেন না, বরং নিজের অর্জনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির হয়ে জাদুকরী পারফরম্যান্স বজায় রেখেছেন লিওনেল মেসি। গত মৌসুমে মায়ামিকে এমএলএস কাপ জেতানোর পর এ বছর মেসির শুরুটা হয়েছে অনেকটা কৌশলী ও বিশ্রামের আমেজ নিয়ে। শুরুতে টানা ১৩ ম্যাচ কোনো অ্যাসিস্ট করতে না পারলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে নিজের প্লে-মেকিং সামর্থ্য দিয়ে আবার সেই খরা কাটিয়ে উঠেছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। চলতি বছর ইন্টার মায়ামির হয়ে ১৫ ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন মেসি। যদিও রোনালদোর তুলনায় তিনি কম ম্যাচ খেলেছেন, তবে প্রতি মিনিটে গোল বা অ্যাসিস্টের অবদানে মেসি এখনও অনেক বেশি দক্ষ প্রমাণিত হচ্ছেন।

রোনালদোর বর্তমান লক্ষ্য এখন ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়া। ফুটবল ইতিহাসে এটি এমন এক নজির স্থাপন করবে যা ভাঙা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে সৌদি লিগের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সাবেক ব্রেন্টফোর্ড স্ট্রাইকার ইভান টোনির সাথে রোনালদোর এক তীব্র লড়াই চলছে। ইভান টোনি গত মৌসুমে ইউরোপ থেকে সৌদিতে পাড়ি জমানোর পর থেকেই ছন্দে আছেন। তবে রোনালদোর অভিজ্ঞতা এবং দলের ওপর তার প্রভাব আল-নাসরকে শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে মেসির দৃষ্টি এখন উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপে নিজের শেষ ছোঁয়া দেওয়ার দিকে, যেখানে তিনি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামবেন।

২০২৬ সালের এই পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে যে, কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি পেছনে ফেলে দুই মহাতারকাই এখন নতুন উদ্যমে প্রস্তুত। ফুটবল ভক্তদের জন্য এটি কেবল পরিসংখ্যানের খেলা নয়, বরং দুই শ্রেষ্ঠত্বের শেষ মুহূর্তগুলো সরাসরি দেখার এক দুর্লভ সুযোগ। রোনালদো যেখানে পেশিশক্তি এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের ওপর নির্ভর করছেন, মেসি সেখানে নির্ভর করছেন তার ফুটবলীয় মস্তিস্ক এবং ড্রিবলিংয়ের ওপর। কে সেরা—সেই পুরনো তর্কের সমাধান হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মাঠের লড়াইয়েই খুঁজে পাবেন ভক্তরা। তবে আপাতত ফুটবল বিশ্ব উপভোগ করছে তাদের এই অবিশ্বাস্য দীর্ঘায়ু ও গোলের লড়াই।

banner
Link copied!