সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিস্ফোরণ: ইসরায়েলের গোপন ছক ফাঁস

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১১, ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিস্ফোরণ: ইসরায়েলের গোপন ছক ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয় বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদী ইসরায়েলি পরিকল্পনার চূড়ান্ত বাস্তবায়ন। আল জাজিরার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আল মুকাবালায়’ দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। তার মতে, আমরা এখন পুরো অঞ্চলের একটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের সাক্ষী হচ্ছি যা আগামী কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এবং সীমানা নির্ধারণ করবে।

শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি জানান যে, ইসরায়েলের বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠী অনেক আগে থেকেই এই যুদ্ধের ছক কষছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৯০-এর দশকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সময় থেকেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে আসছেন। সাবেক এই কাতারি প্রধানমন্ত্রীর মতে, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো এই ধরনের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধাবোধ করলেও শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে একটি ‘ভ্রম’ বা অলীক স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই বিশ্বাস জন্মাতে সক্ষম হন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধটি হবে অত্যন্ত দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বর্তমান ইরানি সরকারের পতন ঘটবে।

সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটকে এই যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এই সংঘাত উসকে দেওয়ার পেছনে ইসরায়েলি ডানপন্থীদের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। সেটি হলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের আকাঙ্ক্ষা। এই পরিকল্পনার আওতায় ইসরায়েলি সীমানা প্রতিবেশী আরব ভূখণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার একটি গোপন চিন্তা রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শেখ হামাদ বলেন যে, নেতানিয়াহু এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি ‘জোরপূর্বক আঞ্চলিক জোট’ গঠনের চেষ্টা করছেন যেখানে ইসরায়েলের প্রাধান্য থাকবে নিরঙ্কুশ।

কাতার এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে শেখ হামাদ তার উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, গত বছরই তিনি এই ধরনের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের বিষয়ে আরব দেশগুলোকে সতর্ক করেছিলেন। তখন তিনি সামরিক হামলা এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি মনে করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন একটি শক্তিশালী ‘যৌথ প্রতিরক্ষা জোট’ গঠন করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিত শক্তির বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ হামাদের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন ইরানের সাথে যুদ্ধের রেশ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তখন একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিকের এমন দাবিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, নেতানিয়াহু এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী এবং তিনি নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং ইসরায়েলের সীমানা বাড়াতে পুরো বিশ্বকে এক বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন। ইসরায়েলের এই তথাকথিত নীলনকশা যদি সফল হয়, তবে ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।

banner
Link copied!