বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে আসা শান্তি প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একইভাবে মার্কিন অপরিশোধিত তেল বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরান তাদের এই প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছিল, যারা বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। তবে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে লিখেছেন যে, তিনি তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পড়েছেন এবং এটি তার কাছে মোটেও পছন্দ হয়নি। ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা সহজে কমছে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে চরম সংকটে ফেলেছে।
ওয়াশিংটন এই সংকট সমাধানের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অবাধ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি স্থগিত করা। তবে তেহরানের পাল্টা প্রস্তাবে এই বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব পেয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ বলে গণ্য হবে না।
বর্তমানে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে যা গত এপ্রিলের শুরুতে ঘোষণা করা হয়েছিল। বিক্ষিপ্তভাবে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটলেও দুই পক্ষের সেনারা বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ থেকে বিরত রয়েছে। ২১ এপ্রিল ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছিলেন যাতে ইরান একটি সুনির্দিষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে। তবে সর্বশেষ কূটনৈতিক অচলাবস্থা বাজারকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে, যা তেলের দামকে ১০০ ডলারের ওপরে ধরে রেখেছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষ সংকটে পড়লেও বিশ্বের বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি আরামকো রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের তুলনায় বছরের প্রথম তিন মাসে তাদের আয় ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেছেন যে তাদের আন্তঃদেশীয় পাইপলাইন এই যুদ্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে যা জাহাজ চলাচলের বিঘ্ন এড়াতে সাহায্য করেছে। একইভাবে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম এবং শেলের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সংকটে ব্যাপক মুনাফা বাড়ার খবর দিয়েছে।
