শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালো পাকিস্তান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৯, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

এবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালো পাকিস্তান

অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের ওপর জ্বালানি তেলের দামের আরও একটি বড় বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ তীব্র অর্থনৈতিক টানাপড়েনের জেরে প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ১৫ রুপি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সামা টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে গতকাল শুক্রবার রাতে দেশটির পেট্রোলিয়াম বিভাগ এই মূল্যবৃদ্ধির নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন নির্ধারিত এই দর আজ শনিবার থেকেই সারাদেশে কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পাকিস্তানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৪ রুপি ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ৪১৪ রুপি ৭৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাই-স্পিড ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৪ রুপি ৫৮ পয়সায়। মাত্র কয়েকদিন আগেই দেশটির সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানের জনসাধারণের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিলও পাকিস্তানে এক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় লিটারপ্রতি পেট্রোলের দাম ৬ রুপি ৫১ পয়সা এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম প্রায় ১৯ রুপি ৩৯ পয়সা বাড়ানো হয়। অর্থাৎ মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো তেলের দাম বাড়ানো হলো যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির ক্রমাগত দরপতনের কারণেই সরকারকে বারবার এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের কৃষি ও পরিবহন খাত মূলত হাই-স্পিড ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ডিজেলের দাম এক লাফে ১৫ রুপি বাড়ায় ট্রাক ও গণপরিবহনের ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কাঁচামাল ও খাদ্যশস্য সরবরাহের খরচ বাড়বে যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকেই যাবে। বিশেষ করে কৃষকরা সেচ কাজে ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহার করেন বলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ভর্তুকি বা বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস না পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

বর্তমানে পাকিস্তান সরকারের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফ-এর কঠিন শর্তগুলো পূরণ করতে গিয়ে দেশটিকে দফায় দফায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এভাবে ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়তে থাকলে দেশটিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং মানুষের জীবনযাত্রা থমকে যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান এই সংকট কীভাবে মোকাবেলা করবে তা এখন দেখার বিষয়। তেলের বাজারের এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হয় তা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করছে।

banner
Link copied!