শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

৩৯-এ পা দিয়ে মাঠেই জন্মদিন উদযাপন করলেন মুশফিকুর রহিম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৯, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

৩৯-এ পা দিয়ে মাঠেই জন্মদিন উদযাপন করলেন মুশফিকুর রহিম

পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হলো বাংলাদেশ শিবিরে। আজ ৯ মে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের ৩৯তম জন্মদিন। দিনটি রাঙাতে ম্যাচ শুরুর আগেই ড্রেসিংরুমের সামনে তাকে সারপ্রাইজ দেন সতীর্থরা। সতীর্থদের আনা জন্মদিনের কেক কেটেই মাঠে নামেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। বিশেষ এই দিনে ব্যাট হাতেও দ্যুতি ছড়াতে ভুল করেননি টাইগারদের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। অভিজ্ঞতার ঝুলি খুলে পাকিস্তানের বোলারদের সামলে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

জন্মদিনের সকালটা মাঠের বাইরের উদযাপনে শুরু হলেও মাঠের ভেতরে মুশফিক ছিলেন অত্যন্ত সাবধানী ও কৌশলী। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে তার নামের পাশে ছিল ৪৮ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। তবে পাকিস্তান বোলারদের নিখুঁত লাইনের কারণে এই মাইলফলক ছুঁতে তাকে কিছুটা সময় ধৈর্য ধরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১১৪ বলে নিজের কাঙ্ক্ষিত ফিফটি তুলে নেন তিনি। ফিফটি করার পর যেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন মুশফিক। বর্তমানে তিনি ১৫৭ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ মাতাচ্ছেন।

এই টেস্টের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ দল বেশ সুসংহত অবস্থানে রয়েছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১০১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস টাইগারদের শক্ত ভিত গড়ে দেয়। শান্ত আউট হওয়ার পর উইকেটে আসেন মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে তিনি দলের আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মমিনুল হকের সঙ্গে জুটি গড়েন। এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি পাকিস্তান বোলারদের বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল। মমিনুল হকও সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো ব্যক্তিগত ৯১ রানে নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

মমিনুলের বিদায়ের পর উইকেটে আসা লিটন কুমার দাসকে নিয়ে দিনের বাকি সময়টা পার করে দেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে নেন মুশফিক। পাকিস্তানের পেসার ও স্পিনারদের সম্মিলিত আক্রমণ মোকাবেলা করে তিনি উইকেট আগলে রেখেছেন। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৩০১ রান সংগ্রহ করেছিল। দ্বিতীয় দিনের খেলা চলাকালীন শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ৩৫৪ রান। মুশফিকের অবিচল ব্যাটিং বলে দিচ্ছে বড় লিড নেওয়ার পথে রয়েছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের মাটিতে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

মুশফিকুর রহিমের দীর্ঘ ১৯ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এই ৩৯তম জন্মদিনটি তাই কেবল একটি সাধারণ জন্মদিন হয়ে থাকল না। এটি তার পেশাদারিত্ব ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতার এক বড় উদাহরণ হয়ে রইল। বিদেশের মাটিতে প্রতিকূল কন্ডিশনে যেভাবে তিনি ব্যাট হাতে দলকে টেনে নিচ্ছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের ভালোবাসা আর মাঠের দর্শকদের হাততালি মুশফিকের এই জন্মদিনকে স্মৃতির পাতায় অক্ষয় করে রাখবে। এখন সমর্থকদের অপেক্ষা কেবল একটিই—মুশফিক যেন তার এই ৬৬ রানের ইনিংসটিকে একটি স্মরণীয় সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারেন।

banner
Link copied!