বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ফের বড় ধরনের লাফ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়ে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবর সামনে আসার পরই বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে নতুন করে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়া এবং মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হওয়া স্বর্ণের বাজারকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে বলে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ২৩ এপ্রিলের পর এটিই স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম। অন্যদিকে আগামী জুন মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৪৫ দশমিক ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ৫ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমানের এই উল্লম্ফন বাজারকে ফের স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখানে মূল বিষয়টি হলো ভূ-রাজনীতি। গত কয়েক মাস ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এই খবরের প্রভাবে বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আতঙ্ক কিছুটা কমেছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া মার্কিন ডলারের দরপতনও স্বর্ণের বাজারকে সহায়তা করছে কারণ ডলার দুর্বল হলে অন্য মুদ্রার অধিকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা সাশ্রয়ী হয়ে যায়।
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাব কেবল জ্বালানি বা স্বর্ণের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপের অন্যতম ধনী দেশ সুইজারল্যান্ডে এই যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দেশটির জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে সুইজারল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়তে পারে। এই আশঙ্কার কারণে অনেক ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীও এখন স্টক মার্কেটের চেয়ে স্বর্ণকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। যদি ৪ হাজার ৭৫০ ডলারের শক্তিশালী বাধা স্বর্ণ অতিক্রম করতে পারে তবে এটি খুব দ্রুতই ৫ হাজার ডলারের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে শান্তিচুক্তির অগ্রগতির ওপর। যদি শেষ মুহূর্তে কোনো পক্ষ চুক্তি থেকে সরে আসে তবে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে এবং স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে কমতে পারে। তবে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বর্ণই সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
