বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৭, ২০২৬, ১২:১৭ এএম

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ

বর্তমান যুগের তরুণ প্রজন্মের জীবন এখন অনেকটাই স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক। তবে এই ডিজিটাল আসক্তি তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে বলে নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের কৃত্রিম জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করার ফলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং একাকীত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমগুলো এমনভাবে তৈরি যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে এবং তাদের ঘুমের প্যাটার্ন নষ্ট করে দেয়, যা সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রতি সাতজন কিশোরের মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে সাইবার বুলিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া নেতিবাচক মন্তব্যকে দায়ী করা হচ্ছে। তরুণরা যখন ফেসবুকে বা ইনস্টাগ্রামে নিখুঁত ছবি বা সাফল্য দেখে, তখন তাদের মধ্যে ‍‍`ফোমো‍‍` (FOMO) বা কিছু হারিয়ে ফেলার ভয় তৈরি হয়। এটি তাদের মধ্যে হীনম্মন্যতা সৃষ্টি করে এবং বাস্তব জীবনের সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। লন্ডনের কিংস কলেজের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী তরুণদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ।

এই সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবক মহল থেকে ডিজিটাল ডিটক্সের বা নিয়মিত বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অনেক দেশেই এখন স্কুলের ভেতরে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকেও তাদের অ্যালগরিদম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে যাতে ক্ষতিকর কন্টেন্ট তরুণদের সামনে কম আসে। পরিবারে সন্তানদের সাথে গুণগত সময় কাটানো এবং তাদের বাস্তব জীবনের শখের প্রতি উৎসাহিত করা মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামি জীবন দর্শনেও সময় অপচয় এবং অতিরিক্ত প্রদর্শনপ্রিয়তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল প্রযুক্তির দোষ দিয়ে লাভ নেই বরং আমাদের শিখতে হবে কীভাবে সুস্থ উপায়ে ডিজিটাল টুলগুলো ব্যবহার করা যায়। তরুণদের শেখাতে হবে যে সোশ্যাল মিডিয়ার জীবনই সব নয়। স্কুলগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। উম্মাহ কণ্ঠের এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যদি সময়মতো এই ডিজিটাল মহামারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আগামী প্রজন্ম এক গভীর মানসিক সংকটের সম্মুখীন হতে পারে। সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের সুস্থ মানসিকতা নিশ্চিত করা প্রতিটি রাষ্ট্রের এবং পরিবারের মৌলিক দায়িত্ব।

banner
Link copied!