বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা উয়েফার দেওয়া একটি নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে, যার ফলে আর্জেন্টিনার তরুণ উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলা হুমকির মুখে পড়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে সমকামিতাবিদ্বেষী (হোমোফোবিক) মন্তব্য করার জেরে তাকে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা। এখন সেই নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে এসএল বেনফিকার ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড যদি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে ডাক পান, তবে তাকে আসরের প্রথম দুটি ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের দিন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ওই ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রমাণ পাওয়ায় উয়েফা তাকে প্রাথমিকভাবে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়।
ইতোমধ্যে প্রেস্টিয়ানি এক ম্যাচের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন, যার কারণে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। তবে উয়েফার আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এই নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত করেছে।
বুধবার ফিফার একজন মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ৭০ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই শাস্তির পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এই বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা মূলত উয়েফার ক্লাব পর্যায়ের প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে ঘরোয়া লিগ বা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ফিফার এই সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনা দলের টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি বড় ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্টে `গ্রুপ জে`-তে খেলবে আর্জেন্টিনা। আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। দলে সুযোগ পেলে প্রেস্টিয়ানি আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দুটিতে অংশ নিতে পারবেন না।
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নজর কাড়লেও জাতীয় দলের জার্সিতে প্রেস্টিয়ানির অভিজ্ঞতা খুব একটা নেই। গত নভেম্বরে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে তিনি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলের স্বাদ পেয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মাঠে খেলোয়াড়দের যেকোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ফুটবল কর্তৃপক্ষ। উয়েফার একটি শাস্তিকে ফিফার মাধ্যমে বৈশ্বিক রূপ দেওয়ার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বর্ণবাদ বা অন্য কোনো বিদ্বেষমূলক আচরণের ক্ষেত্রে আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বিশ্বকাপ দলে এই তরুণ উইঙ্গারের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
