যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের একটি সিনাগগের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আয়োজিত একটি ইসরায়েলি আবাসন মেলার প্রতিবাদে তারা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মেলায় ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন জমি ও সম্পত্তি বিক্রির জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছিল। মানবাধিকার কর্মীরা এই ধরনের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করছেন। গত ছয় মাসের মধ্যে একই স্থানে এটি এ ধরনের দ্বিতীয় বিক্ষোভের ঘটনা।
ঘটনাস্থলে প্রায় ১০০ জন ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন সেখানে ইসরায়েলপন্থী পাল্টা বিক্ষোভকারীরা এসে উপস্থিত হন। আল জাজিরা জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হন। বিক্ষোভকারীরা যখন পুলিশের তৈরি করা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে মূল ইভেন্টের আরও কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন পুলিশের সঙ্গেও তাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়।
নিউইয়র্কের মতো আন্তর্জাতিক শহরে এ ধরনের রিয়েল এস্টেট ইভেন্টগুলো প্রায়শই গভীর বিতর্কের জন্ম দেয়। বিশেষ করে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জমি বিক্রির বিষয়টি সাধারণ নাগরিক ও অধিকার কর্মীদের তীব্র ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ। রয়টার্স ও বিবিসির মতো সংবাদমাধ্যমগুলো নিয়মিতভাবে উল্লেখ করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অবৈধ বসতিগুলোকে শান্তির পথে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচনা করে।
এ ধরনের জমি বিক্রির বাণিজ্যিক আয়োজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফিলিস্তিনপন্থী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের একটি মূল কারণ। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দখলকৃত জমিতে এ ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং এর মাধ্যমে অবৈধ দখলদারিত্বকে স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভ মূলত সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই একটি বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।
নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে যে তারা উভয় পক্ষকে আলাদা রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বড় সহিংসতা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। তা সত্ত্বেও, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টায় কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এই ঘটনাগুলো স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ঢেউ পশ্চিমা শহরগুলোর রাজপথে কতটা গভীর প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের উত্তেজনা নিকট ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
