বুধবার, ০৬ মে, ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

আল্লাহ ছাড়া কেউ আমাদের বাধ্য করতে পারবে না: পেজেশকিয়ান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৬, ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম

আল্লাহ ছাড়া কেউ আমাদের বাধ্য করতে পারবে না: পেজেশকিয়ান

ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মুসলিম উম্মাহর আত্মমর্যাদা এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের শক্তি নিয়ে এক শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মুসলিমরা যেহেতু ইতিমধ্যেই পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে নিজেদের সঁপে দিয়েছে, তাই অন্য কোনো পার্থিব শক্তি তাদের বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করতে পারবে না। বুধবার প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পেজেশকিয়ানের এই অনমনীয় অবস্থানের কথা উঠে এসেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-র (IRNA) বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বার্তায় বিশ্বাসের শক্তিকে রাজনৈতিক প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, আমরা মুসলমানরা আগেই আত্মসমর্পণ করেছি; তবে তা কেবল সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে। এই মৌলিক বিশ্বাসের কারণে আর কোনো শক্তি আমাদের আর কোনোভাবে আত্মসমর্পণ করাতে সক্ষম নয়। পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিশেষভাবে শিয়া মতবাদের অনুসারীদের চারিত্রিক দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি তার বার্তায় যোগ করেন যে, শিয়া মতবাদের অনুসারীদের কখনোই জোর-জবরদস্তি বা বাইরের চাপের মাধ্যমে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায় না। উল্লেখ্য যে, এই বার্তাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের ওপর বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। পেজেশকিয়ান তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত তেহরানের দীর্ঘদিনের ‍‍`প্রতিরোধমূলক নীতি‍‍` বা ‍‍`পলিসি অফ রেজিস্ট্যান্স‍‍`-কেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছেন।

এর আগে বিভিন্ন কূটনৈতিক সংলাপেও পেজেশকিয়ান একই ধরনের সুর ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক টেলিফোন আলাপকালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল থেকে সামরিক হুমকি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, কোনো ধরনের ভীতি প্রদর্শন বা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে শিয়া মুসলিমদের বশ্যতা স্বীকার করানো অসম্ভব। তার মতে, ধর্মীয় আদর্শ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের সংমিশ্রণ ইরানকে যেকোনো বহিরাগত চাপের বিরুদ্ধে টিকে থাকার শক্তি যোগায়।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই দৃষ্টিভঙ্গি কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলিমদের জন্য একটি আত্মবিশ্বাসের বার্তা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রকৃত মুমিনের চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ কেবল স্রষ্টার কাছেই সীমিত থাকে, যা তাকে অন্য যেকোনো অসম্মানজনক চুক্তিতে সই করতে বা বশ্যতা মানতে বাধা দেয়। এই আধ্যাত্মিক শক্তিই মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হতে পারে বলে পেজেশকিয়ান মনে করেন।

banner
Link copied!