বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

মাওলানা মাদানীর শ্বশুর যেভাবে হলেন ৯ বিয়ে করা সেই কাসেমী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৭, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

মাওলানা মাদানীর শ্বশুর যেভাবে হলেন ৯ বিয়ে করা সেই কাসেমী

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও মারকাযু শাহাবুদ্দিন আল ইসলামি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী নিজের দ্বিতীয় বিবাহের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন। বুধবার সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রথম সিজন বা প্রথম বিবাহের পর তার এই নতুন জীবন শুরুর খবরটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাদানী তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর ভয় থেকেই তিনি এই কঠিন কিন্তু শরয়ি সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছেন। তিনি সমাজের সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনার চেয়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন পরিচালনা করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

মাদানীর এই বিয়ের খবরের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, তা হলো তার সাথে মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীর পারিবারিক সম্পর্ক। মামুনুর রশিদ কাসেমী ‘আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরো’র প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি নিজে এ পর্যন্ত ৯টি বিয়ে করার কারণে আলোচিত ও বিতর্কিত। কাসেমী মাদানীর এই বিয়ে নিয়ে একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা মূলত সম্পর্কের এক জটিল গোলকধাঁধা তৈরি করেছে। কাসেমী দাবি করেছেন যে, তার সাথে মাদানীর সম্পর্ক এখন ‘ভায়রা ভাই’ হওয়ার পাশাপাশি এক অর্থে শ্বশুর-জামাইয়ের মতো। এই রসালো ও প্যাঁচানো সম্পর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

মুফতি কাসেমীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাফেজ ইমাম উদ্দিন সাহেব তার বড় চাচার জামাই এবং সেই সূত্রে তার দুলাভাই। কাসেমী বিয়ে করেছেন সেই ইমাম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়েকে, যার ফলে ইমাম উদ্দিন তার শ্বশুর হন। অন্যদিকে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী বিয়ে করেছেন ইমাম উদ্দিনের চতুর্থ স্ত্রীর ছোট বোনকে। এই সমীকরণে মাদানী এবং কাসেমী এখন একে অপরের ভায়রা ভাই। কাসেমী মজা করে লিখেছেন যে, শ্বশুরের ভায়রা ভাই যেহেতু এক অর্থে শ্বশুরই হয়, তাই মাদানী এখন তার নতুন শ্বশুর। এই পারিবারিক সম্পর্কের বয়ানটি প্রকাশের পর ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীর অতীত ইতিহাস বেশ বিতর্কিত। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নারীদের সাথে প্রতারণা এবং নির্যাতনের অভিযোগে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। সেই সময় জানা যায় যে, তিনি নয়টি বিয়ে করেছেন যার মধ্যে বর্তমানে মাত্র চারজন স্ত্রী তার সাথে রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে কয়েকজন তাকে তালাক দিয়েছেন এবং কয়েকজনের তথ্য অস্পষ্ট। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির সাথে মাদানীর পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসায় অনেক ভক্ত ও অনুসারী কিছুটা বিব্রতবোধ করছেন। তবে মাদানীর সমর্থকরা বলছেন যে, পারিবারিক সম্পর্ক ব্যক্তিগত বিষয় এবং তিনি কেবল শরয়ি বিধান মেনেই বিবাহ করেছেন।

রফিকুল ইসলাম মাদানী তার ফেসবুক পোস্টে সমাজকে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি লিখেছেন যে, এক শ্রেণির মানুষ পরকীয়া বা ব্যভিচারকে স্বাভাবিক মনে করলেও দ্বিতীয় বিবাহকে ঘৃণার চোখে দেখে। তিনি এই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চান। মাদানী স্পষ্ট করেছেন যে, গোনাহের অন্ধকার পথে না গিয়ে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াটাই একজন মুমিনের পরিচয়। তার এই পদক্ষেপ অনেক তরুণ আলেম ও অনুসারীদের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মুফতি কাসেমীর সাথে তার এই অদ্ভুত সম্পর্কের যোগসূত্রটি খবরের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে দুই আলেমই বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলছেন। মাদানীর দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠান বা বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে আসেনি, তবে তার পোস্টের ভাষা ছিল আবেগপ্রবণ ও ধর্মীয় সতর্কবার্তায় পূর্ণ। অন্যদিকে কাসেমী তার ‘ম্যারেজ ব্যুরো’র প্রচারণার স্বার্থে বা নিছক কৌতূহল বশত এই সম্পর্কের বিশ্লেষণ করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। সব মিলিয়ে ঢাকার ইসলামি ধারার আলোচনায় এখন রফিকুল ইসলাম মাদানী এবং তার নতুন জীবনই প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাসেমীর বর্তমান অবস্থান বা তার নতুন কোনো বিতর্ক নিয়ে কোনো বিবৃতি না পাওয়া গেলেও ভক্তদের মধ্যে শঙ্কা ও বিস্ময় রয়েই গেছে।

banner
Link copied!