বৃহস্পতিবার, ০৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধের দাবি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৭, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধের দাবি

বাংলাদেশে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের জন্য সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘লিগ্যাল ভয়েস ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী এই নোটিশ প্রেরণ করেন। মূলত শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে এই নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং এর অপব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।

আইনি নোটিশের বিস্তারিত অংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে শিশু-কিশোরদের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব মাধ্যমে আসক্তির ফলে অল্প বয়সীরা তাদের স্বাভাবিক শৈশব ও পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর্দার সামনে বুঁদ হয়ে থাকায় তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে খেলাধুলার মাঠ থেকে দূরে সরে গিয়ে ডিজিটাল দুনিয়ায় সময় কাটানোয় কিশোরদের স্বাভাবিক সামাজিকীকরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার ও পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা কিশোর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়। ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী জানান, বর্তমানে কিশোর গ্যাং বা দলবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা সচেতন হলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তারা সন্তানদের অনলাইন কর্মকাণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না।

দেশের প্রচলিত আইনেও শিশুদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপট থেকে এই আইনি নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবীরা। এখন দেখার বিষয় সরকার ও বিটিআরসি এই নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে কোনো গঠনমূলক নীতিমালা বা নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয় কি না। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে টিকটক বা পাবজি গেমের মতো প্ল্যাটফর্ম বন্ধের দাবি উঠলেও ১৬ বছর পর্যন্ত ঢালাও নিষেধাজ্ঞার এই দাবি আইনি মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

banner
Link copied!