পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন দিগন্তে দাঁড়িয়ে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ শনিবার কলকাতার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে প্রথম ধাপে পাঁচজন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী এই পাঁচজনের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাজ্যে গেরুয়া শাসনের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় যা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রাথমিক মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন দলের প্রবীণ ও নবীন নেতাদের এক সুসংহত সমন্বয়। মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া পাঁচজন হলেন— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনিয়া। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন মন্ত্রীদের অভিনন্দন জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই পাঁচজনের নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল পর্যন্ত ভৌগোলিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষ করে অভিজ্ঞ সংগঠনক এবং জননেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এই নতুন তালিকায়।
দিলীপ ঘোষ বিজেপির একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও প্রবীণ নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাবেক সভাপতি এবং আরএসএসের একজন একনিষ্ঠ প্রচারক ছিলেন। ২০১৪ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির যে অভূতপূর্ব সাংগঠনিক বিস্তার ঘটেছে তার মূলে দিলীপ ঘোষের বলিষ্ঠ ভূমিকা অনস্বীকার্য। মেদিনীপুরের সাবেক এই সংসদ সদস্য তার স্পষ্টভাষী মনোভাব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াকু মানসিকতার জন্য দলীয় কর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার অন্তর্ভুক্তি শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার এক বিশাল শক্তি যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ফ্যাশন ডিজাইনার থেকে রাজনীতির আঙিনায় উঠে আসা অগ্নিমিত্রা পাল বর্তমানে এই মন্ত্রিসভার একমাত্র নারী সদস্য। ২০১৯ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বারবার জয়ী হওয়া এই নেত্রী মহিলা মোর্চার দায়িত্বও পালন করেছেন। যদিও তিনি উপনির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচনে কিছু ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন তবে বর্তমান বিধানসভা নির্বাচনে তার জয় তাকে আবারও সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে। তার অন্তর্ভুক্তি নারী ভোটারদের কাছে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করবে।
মন্ত্রিসভার বাকি তিন সদস্য নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনিয়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি গড়ে তুলতে কাজ করেছেন। নিশীথ প্রামাণিক উত্তরবঙ্গের এক পরিচিত মুখ এবং প্রভাবশালী নেতা। অন্যদিকে ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনিয়া মূলত আদিবাসী ও মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন যা বিজেপির ভোট ব্যাংকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসন রাজ্যে সুশাসন ও উন্নয়নের বার্তা দিতে চাচ্ছেন। আজ থেকেই নতুন এই মন্ত্রীরা নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
