সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

মে মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্সের জোয়ার: ৯ দিনে এলো ১২ হাজার কোটি টাকা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১০, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

মে মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্সের জোয়ার: ৯ দিনে এলো ১২ হাজার কোটি টাকা

চলতি বছরের মে মাসের শুরুতেই দেশের প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম নয় দিনেই প্রবাসীরা ১০২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিশাল অংকের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৩০ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, প্রতি মার্কিন ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা বিনিময় হার হিসেবে এই হিসাব করা হয়েছে। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইতিবাচক পরিসংখ্যানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে গত তিন দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দেশে এসেছে। এই তিন দিনেই প্রবাসীরা তিন হাজার ৪০০ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম নয় দিনের তুলনায় এবারের প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। গত বছর এই একই সময়ে দেশে ৮৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা থাকায় প্রবাসীরা সাধারণত তাদের পরিবারের কাছে বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে থাকেন। এই উৎসবের আমেজ এবং কোরবানির পশু কেনার বাড়তি চাহিদাই মে মাসের শুরু থেকে রেমিট্যান্সের এই জোয়ারের অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণের ফলে প্রবাসীরা হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চলমান চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে যে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিশেষ অফারও এখানে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই কষ্টার্জিত অর্থ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আমদানির দায় মেটাতে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে এই প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজতর করার চেষ্টা চলছে।

banner
Link copied!