ইসলামিক জীবনব্যবস্থায় ফিকহ বা আইনশাস্ত্র এবং নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি ম্যানচেস্টারের আল-ফুরকান ইসলামিক সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ পাঠে শেখ মোহাম্মদ শাইবানি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি ফিকহ বা মাজহাবের প্রয়োজনীয়তা এবং নামাজের আধ্যাত্মিক ও ব্যবহারিক দিকগুলো তুলে ধরেছেন, যা বর্তমান সময়ের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
শাইখ তার লেকচারে মাজহাবের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, মাজহাব কোনো আলাদা ধর্ম নয়, বরং এটি কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা মেথডোলজি। সাহাবায়ে কেরামদের সময় থেকেই এই ব্যাখ্যার ভিন্নতা শুরু হয়েছিল। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সব সাহাবী সবসময় রাসুল (সা.)-এর সাথে থাকতেন না, ফলে কেউ কেউ কোনো নির্দিষ্ট হাদিস সম্পর্কে জানতেন আবার কেউ জানতেন না। এছাড়া আরবী ভাষার গভীরতার কারণে একই শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ব্যাখ্যার পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
মাজহাবের ভিন্নতা সত্ত্বেও উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। মিনায় যখন ওসমান (রা.) চার রাকাত নামাজ পড়েছিলেন, তখন ইবনে মাসউদ (রা.) তার সাথে ভিন্নমত পোষণ করা সত্ত্বেও জামাতে চার রাকাতই আদায় করেছিলেন।এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা পছন্দনীয় নয়। শেখ শাইবানি পরামর্শ দেন যে, সাধারণ মানুষের উচিত তারা যে অঞ্চলে বাস করেন, সেখানকার নির্ভরযোগ্য আলেম বা মাজহাব অনুসরণ করা, যা তাদের দ্বীন পালনে সহজ করবে।
নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, নামাজ হলো বান্দার সাথে আল্লাহর সম্পর্কের সেতুবন্ধন। যেমন শরীরের জন্য খাবারের প্রয়োজন, তেমনি আত্মার প্রশান্তির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অপরিহার্য। তিনি মিরাজের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সরাসরি আসমানে আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। জিবরাইল (আ.) নিজে পৃথিবীতে এসে রাসুল (সা.)-কে নামাজের সময়সূচী শিখিয়েছিলেন।
বর্তমানে পাশ্চাত্য বা অমুসলিম দেশে বসবাসরত মুসলমানদের জন্য সময়মতো নামাজ পড়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ শাইবানি পরামর্শ দেন যে, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় বা কর্মক্ষেত্রে নামাজের জন্য জায়গা চেয়ে নেওয়া উচিত। ইসলাম অনেক সহজ; নামাজের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন নেই, যেকোনো পরিষ্কার জায়গায় নামাজ পড়া যায়। যদি কেউ অলসতার কারণে নামাজ ছেড়ে দেয়, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে সে বড় গুনাহগার হলেও মুসলিম থাকবে, যতক্ষণ না সে নামাজের আবশ্যকতা অস্বীকার করে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ফজর বা অন্য কোনো নামাজ দেরি করে পড়া একটি বড় গুনাহ।
পরিশেষে শেখ শাইবানি উম্মাহকে অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং বিতর্কে না জড়িয়ে মূল ইবাদতের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
