রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আসিয়ানের নতুন ‘ফুয়েল শেয়ারিং

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১০, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আসিয়ানের নতুন ‘ফুয়েল শেয়ারিং

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নেতারা চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো পুরোপুরি কার্যকর হতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। শুক্রবার ফিলিপাইনের সেবুতে অনুষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস বা আসিয়ানের ৪৮তম শীর্ষ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলনের মূল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং এর ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট।

নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের অর্ধেকেরও বেশি আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় এই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। এপি এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে যে জ্বালানি সংকট কাটাতে আসিয়ান নেতারা একটি আঞ্চলিক ‘ফুয়েল-শেয়ারিং ফ্রেমওয়ার্ক’ বা জ্বালানি ভাগাভাগি কাঠামোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো জরুরি প্রয়োজনে একে অপরকে জ্বালানি দিয়ে সহায়তা করতে পারবে।

তবে এই নতুন জ্বালানি ভাগাভাগি কর্মসূচিটি ঠিক কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে এখনো অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে। বিশেষ করে কোন দেশ সংকটের সময় অগ্রাধিকার পাবে এবং জ্বালানি বিনিময়ের আর্থিক লেনদেন কীভাবে সম্পন্ন হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখনো বাকি। আসিয়ান চেয়ারম্যান এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সম্মেলনের ফলাফলকে স্বাগত জানালেও এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতাগুলো স্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে জ্বালানি কীভাবে ভাগ করা হবে এবং কে কী পাবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। এর মূল্য পরিশোধ বা বিনিময় পদ্ধতি কী হবে তা নিয়েও কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা এই ব্লকের নেই।

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহের ঘাটতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের কলকারখানা ও পরিবহন ব্যবস্থাকে স্থবির করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নেতারা জানান যে জ্বালানি সংকটের কারণে ইতিমধ্যে এই অঞ্চলের অনেক দেশে অফিস সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আসিয়ান নেতারা মনে করছেন যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই দীর্ঘমেয়াদী মন্দা কাটানো সম্ভব নয়।

প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র জানান যে এই প্রথম আসিয়ান এই ধরনের একটি জটিল অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের সমাধান ছাড়াও সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের সংকট মোকাবিলাই নেতাদের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সেবু সম্মেলনে গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদী সুফল আনলেও বর্তমানের তীব্র জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে এগুলো তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দিতে পারছে না।

banner
Link copied!