শনিবার চেন্নাইয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে টিভিকের সাধারণ সম্পাদক আধব অর্জুনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, জোসেফ বিজয়ই হচ্ছেন তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে ভিসিকে প্রধানের পক্ষ থেকে সমর্থনের একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি টিভিকের সদর দপ্তরে পৌঁছালে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। আধব অর্জুনা জানান, তারা ইতোমধ্যেই সরকার গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছেন এবং খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যপালের কাছে শপথ গ্রহণের সময় চাইবেন।
গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে সবাইকে চমকে দিয়ে বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে। তবে একটি আইনি মারপ্যাঁচে দলের আসন সংখ্যা ১০৭-এ নেমে আসে, কারণ বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ১১টি আসন দূরে থাকা বিজয়ের জন্য গত কয়েক দিন ছিল স্নায়ুচাপের। তবে একে একে কংগ্রেসের ৫ জন, সিপিআই-এর ২ জন এবং সিপিআই(এম)-এর ২ জন বিধায়ক বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানালে তার ঝুলি ১১৬-তে পৌঁছায়। শনিবার ভিসিকের সমর্থনে সেই সংখ্যা ১১৮-তে উন্নীত হয়, যা তাকে সরকার গঠনের বৈধতা দেয়।
তবে এই অর্জন খুব একটা সহজ ছিল না। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজ্যজুড়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। বিজয় নিজে তিনবার গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করলেও প্রথমদিকে রাজভবন থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিরোধীরা এই সুযোগে বিজয়ের জোট গড়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। বিশেষ করে আইইউএমএল-এর অবস্থান নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জনমনে দ্বিধা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মুসলিম এই রাজনৈতিক দলটি টিভিকের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো দুই শক্তিশালী শক্তির বাইরে বিজয়ের এই উত্থান এক নতুন যুগের সূচনা করল। দীর্ঘ সময় রুপালি পর্দায় দাপিয়ে বেড়ানো এই নায়ক এখন বাস্তব জীবনের জনসেবায় কতটা সফল হন, সেটিই দেখার বিষয়। বিজয়ের সমর্থকরা ইতোমধ্যে চেন্নাইসহ পুরো রাজ্যে উৎসবে মেতেছেন। রাজভবন থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে টিভিকে শিবির। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে।
