ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসের জন্য ২০২৬ সালটি মিশ্র অভিজ্ঞতার এক বছর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি প্রিমিয়ার লিগ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি ছুঁতে পারেননি। তবে ব্যক্তিগত অর্জনে তিনি অনন্য। শুক্রবার তাকে ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (FWA) বছরের সেরা ফুটবলার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ব্রুনো এমন একজন মানুষ, যিনি ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে ক্লাবের সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেন। গত অক্টোবরেও তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন যে, তিনি কেবল নিজের সংখ্যা নয় বরং ক্লাবে ট্রফি ফিরিয়ে আনতে চান।
এই মৌসুমে ইউনাইটেড কোনো ট্রফি জিততে না পারলেও ব্রুনোর সামনে ব্যক্তিগত একটি বড় মাইলফলক রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২০টি অ্যাসিস্ট করার যে রেকর্ড থিয়েরি অরি এবং কেভিন ডি ব্রুইনার দখলে আছে, তা স্পর্শ করতে ব্রুনোর আর মাত্র একটি অ্যাসিস্ট প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি ম্যানচেস্টার সিটির রায়ান চেরকির চেয়ে ৮টি অ্যাসিস্ট বেশি করে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। তার এই সাফল্য নিয়ে সতীর্থদের মধ্যেও বেশ আলোচনা রয়েছে। এমনকি শোনা যাচ্ছে যে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি নিজেই গোল করতে পারতেন, কিন্তু বেনজামিন সেসকোর গোলের পথ তৈরি করতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন তিনি।
ব্রুনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডে এখন কানাঘুষা তুঙ্গে। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর বাকি আছে, যদিও ক্লাবের কাছে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। গত গ্রীষ্মে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলাল তাকে বিশাল অংকের প্রস্তাব দিলেও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ধারণা করা হয়েছিল যে ইউনাইটেড যদি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ না পায়, তবে তিনি হয়তো ক্লাব ছাড়বেন। কিন্তু এখন যখন চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত হয়েছে, তখন ব্রুনো নিজেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে চাইছেন।
তবে এখানে একটি প্যাঁচ রয়েছে। ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ তাদের বেতনের ভারসাম্য বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে ব্রুনোর চুক্তিতে ৬৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি রিলিজ ক্লজ রয়েছে, যা ইংল্যান্ডের বাইরের কোনো ক্লাবের জন্য কার্যকর। যদি কোনো ক্লাব সময়মতো এই অর্থ দিতে রাজি হয়, তবে ব্রুনোকে আটকে রাখা কঠিন হবে। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিক অবশ্য এ বিষয়ে বেশ শান্ত। তার মতে, ব্রুনো বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফুটবল খেলছেন এবং ক্লাব তাকে ধরে রাখতে চায়।
মাঠের লড়াইয়ে ব্রুনোর পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন এসেছে সাবেক কোচ রুবেন আমোরিমের বিদায় এবং ক্যারিকের দায়িত্ব নেওয়ার পর। আমোরিমের অধীনে ব্রুনোকে অনেক গভীর থেকে খেলা তৈরি করতে হতো। কিন্তু ক্যারিক তাকে প্রথাগত `নাম্বার ১০` পজিশনে ফিরিয়ে এনেছেন। ক্যাসিমিরো, কোবি মাইনো এবং ব্রায়ান এমবেউমোদের মাঝে থেকে ব্রুনো এখন অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারছেন। বিশেষ করে ডান দিক থেকে তার ক্রস এবং ক্যাসিমিরোর সাথে তার বোঝাপড়া প্রতিপক্ষের জন্য বড় ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই গ্রীষ্মে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে যাওয়ার আগে ব্রুনো চাইবেন প্রিমিয়ার লিগের অ্যাসিস্ট রেকর্ডটি নিজের করে নিতে। তার ৩২৪ ম্যাচে ১০৬ গোলের রেকর্ড তাকে ইউনাইটেডের অন্যতম সেরা সাইনিং হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ওল্ড ট্রাফোর্ডে থাকবেন কি না, তা নির্ভর করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষের নতুন প্রস্তাব এবং ব্রুনোর ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার ওপর। ভক্তরা নিশ্চয়ই চাইবেন তাদের প্রিয় অধিনায়ক যেন ওল্ড ট্রাফোর্ডেই তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় সাজান।
