রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

আমেরিকায় মা হওয়া কেন এত ব্যয়বহুল? একটি বিশেষ প্রতিবেদন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১০, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

আমেরিকায় মা হওয়া কেন এত ব্যয়বহুল? একটি বিশেষ প্রতিবেদন

আজ ১০ মে ২০২৬, সারা বিশ্ব যখন মা দিবস পালন করছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ নারীর জন্য মা হওয়া বা মাতৃত্ব পালন করা একটি বিশাল আর্থিক এবং জীবনযাত্রার চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত বিশ্বের অন্যান্য সমৃদ্ধশালী দেশের তুলনায় আমেরিকায় মা হওয়ার খরচ এবং প্রসবকালীন ঝুঁকি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। আল জাজিরা এবং সিডিসির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থার শুরু থেকে শিশুর লালন-পালন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে একজন মার্কিন মাকে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা বিশ্বের অধিকাংশ ধনী দেশের ধারণারও বাইরে। এই ব্যয়ের বোঝা শুধু নিম্নবিত্ত নয়, বরং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপরেও প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে।

আমেরিকায় সন্তান জন্ম দেওয়ার খরচ মূলত নির্ভর করে স্বাস্থ্য বীমার ধরণ এবং হাসপাতালটি বীমা কোম্পানির নেটওয়ার্কের ভেতরে নাকি বাইরে তার ওপর। ইন-নেটওয়ার্ক সেবাদাতাদের ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা কম হলেও আউট-অফ-নেটওয়ার্ক বা নেটওয়ার্ক বহির্ভূত হাসপাতাল ও ডাক্তারদের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক পরিবার দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়। ফেয়ার হেলথ নামক একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় স্বাভাবিক প্রসবের জন্য গড় বিল আসে ১৫ হাজার ১৭৮ ডলার। আর যদি সিজারিয়ান বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, তবে এই বিলের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৯২ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেক মাকে কয়েক হাজার ডলার পকেট থেকে খরচ করতে হয়।

খরচের বাইরেও আমেরিকার মাতৃত্বের আরেকটি অন্ধকার দিক হলো উচ্চ মাতৃমৃত্যু হার। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকার মাতৃমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, যা প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে ১৮.৬ জন। যেখানে নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড বা সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে এই হার প্রতি লাখে ৩ জনেরও কম। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো জাতিগত বৈষম্য। সিডিসির ২০২৩ সালের তথ্য বলছে, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ৫০.৩ জন, যা শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সব মায়ের জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে না।

বর্তমানে চলমান ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় আমেরিকান মায়েদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পর্যাপ্ত প্রসূতি ছুটির অভাব এবং আকাশচুম্বী শিশু যত্ন বা চাইল্ড কেয়ার খরচ মেটাতে গিয়ে মায়েরা কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছেন। আমেরিকার সেন্সাস ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৮ শতাংশ আমেরিকান এখনো কোনো স্বাস্থ্য বীমার আওতায় নেই। ফলে তাদের জন্য মাতৃত্বের প্রতিটি ধাপ একটি বিশাল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার নাম। মা দিবসের এই আনন্দঘন মুহূর্তেও তাই অনেক আমেরিকান নারীর মনে মাতৃত্বের এই অদৃশ্য খরচের বোঝা এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

banner
Link copied!