পারস্য উপসাগরে কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কাতার রোববার জানিয়েছে যে তাদের জলসীমায় একটি মালবাহী জাহাজে ড্রোন আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে যে তারা তাদের আকাশসীমায় শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন শনাক্ত করে তা প্রতিহত করেছে। আল জাজিরা ও এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী এই হামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি তবে পুরো অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি থেকে কাতারের মেসেদ বন্দরের দিকে আসার সময় একটি মালবাহী জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়। মেসেদ বন্দরের উত্তর-পূর্বে এই হামলার ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। তবে নাবিকরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন এবং জাহাজটি তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে যে তারা একটি ‘অজানা প্রজেক্টাইল’ বা ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় বস্তুর আঘাতের খবর পেয়েছে তবে এতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি।
একই সময়ে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ভোরের দিকে তাদের আকাশসীমায় বেশ কিছু সন্দেহজনক ড্রোন দেখা যায়। কুয়েতি সামরিক বাহিনী নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোকে মোকাবিলা করেছে তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল তা স্পষ্ট করেনি। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি ইরানকে দায়ী করে জানিয়েছে যে তারা তাদের আকাশসীমায় দুটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে। আমিরাতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ গত এক মাস ধরে কিছুটা স্তিমিত ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে তবে সমুদ্রপথে দুই পক্ষের ছায়াযুদ্ধ বন্ধ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে এবং এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। গত শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে তারা দুটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে কারণ তারা মার্কিন অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করছিল।
ইরানের পক্ষ থেকেও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে তাদের কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে তারা এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ভয়াবহ আক্রমণ চালাবে। ইরানের সংসদীয় কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি জানিয়েছেন যে তেহরানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন যে সময় ফুরিয়ে আসছে এবং আমেরিকানদের উচিত হবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে আত্মসমর্পণ করা। পারস্য উপসাগরের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত পুনরায় শুরু হতে পারে।
