রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরান: খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির কবলে সাধারণ মানুষ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১০, ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরান: খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির কবলে সাধারণ মানুষ

যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরানে খাদ্যদ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে দেশটির অর্থনীতি যে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন নৌ-অবরোধ সেই সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রোববার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইরানে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ও সাধারণ জীবনযাত্রার ব্যয় এখন আকাশচুম্বী, যা সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।

ইরানের স্ট্যাটিস্টিক্যাল সেন্টার (এসসিআই) জানিয়েছে, পারস্য ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস ফারভারদিনে মুদ্রাস্ফীতির হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানটি গত ২০ এপ্রিল শেষ হওয়া মাসের হিসাব থেকে নেওয়া হয়েছে। এসসিআই-এর তথ্যমতে, এক মাসের ব্যবধানেই মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে অন্তত ৫ শতাংশ। অন্যদিকে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতিতে হিসাব করে এই হার ৬৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছে। তবে উভয় সংস্থার তথ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানিরা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে বসবাস করছে, যা তাদের দিন দিন আরও দরিদ্র করে তুলছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আজ রোববার কর্মকর্তাদের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করেন। পেজেশকিয়ান জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন যে দেশকে বর্তমানে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে জাতীয় সংহতি এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমেই এই কঠিন পথ অতিক্রম করা সম্ভব। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আশ্বাসের প্রভাব কতটা পড়বে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তেহরানের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে গত এক মাসের ব্যবধানে অনেক নিত্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। মুদ্রার মান দ্রুত কমতে থাকায় এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে আমদানি করা পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তাজা শাকসবজি, মাংস ও ভোজ্য তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। অনেক পরিবার তাদের খাদ্য তালিকা থেকে প্রোটিন বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ধ্বংস হওয়া এবং অবরোধের ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় কর্মসংস্থানও সংকটের মুখে পড়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে এই যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। মিশর জানিয়েছে তারা ইরান ও পশ্চিমের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা আয়োজনে প্রস্তুত। গালফ দেশগুলোর খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়া জানিয়েছে তারা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেবে না যদি না তারা আক্রান্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতরা এই প্রথম সরাসরি আলোচনায় বসছেন বলে জানা গেছে। তবে মাঠপর্যায়ে ইরানিদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি।

banner
Link copied!