ভিডিও প্রযুক্তির বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান ডিজেআই তাদের পরবর্তী চমক হিসেবে ‘ডিজেআই পকেট ৪ প্রো’ নিয়ে আসার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এর আগে পকেট ৩ এর অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং শৌখিন ভিডিওগ্রাফারদের মধ্যে নতুন এই সংস্করণ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম এবং লিক হওয়া তথ্য অনুযায়ী, পকেট ৪ প্রো হতে যাচ্ছে এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী কম্প্যাক্ট ক্যামেরা। এবারের সংস্করণে ডিজেআই মূলত ভিডিওর মান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনটি আসতে যাচ্ছে এর সেন্সরে। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, পকেট ৪ প্রো-তে থাকছে একটি নতুন প্রজন্মের ১-ইঞ্চি সিএমওএস সেন্সর যা আগের চেয়ে অনেক বেশি আলো গ্রহণ করতে সক্ষম। এর ফলে স্বল্প আলোতে ভিডিও করার সময় নয়েজ বা ঝাপসা ভাব অনেক কমে আসবে। একই সঙ্গে এই ক্যামেরায় প্রথমবারের মতো ৮-কে রেজোলিউশনে ৬০ ফ্রেম পার সেকেন্ডে ভিডিও করার সুবিধা যুক্ত হতে পারে। পেশাদার ভিডিও নির্মাতাদের জন্য এটি একটি বিশাল পাওয়া, কারণ এর আগে এত ছোট ডিভাইসে ৮-কে ভিডিও করার কল্পনা করাও কঠিন ছিল।
ক্যামেরাটির বডির নকশাতেও কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ডিসপ্লেটি আগের চেয়ে কিছুটা বড় এবং উজ্জ্বল হতে যাচ্ছে যাতে সরাসরি সূর্যের আলোতেও ফুটেজ পরিষ্কার দেখা যায়। এদিকে সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ডিজেআই তাদের নিজস্ব ‘অ্যাক্টিভ ট্র্যাক ৭.০’ প্রযুক্তি যুক্ত করছে। এই নতুন এআই ট্র্যাকিং সিস্টেমটি যেকোনো দ্রুতগতিসম্পন্ন বস্তুকে অনেক বেশি নিখুঁতভাবে ফ্রেমের ভেতরে ধরে রাখতে পারবে। বিশেষ করে যারা খেলাধুলা বা বন্যপ্রাণীর ভিডিও করেন, তাদের জন্য এই ফিচারটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে।
পকেট ৪ প্রো-র ব্যাটারি লাইফ নিয়েও ইতিবাচক খবর পাওয়া গেছে। নতুন ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের কারণে এটি একনাগাড়ে প্রায় ১৮০ মিনিট পর্যন্ত ফোর-কে ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম হবে। এছাড়াও ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২০ মিনিট চার্জ দিলে এটি প্রায় ৮০ শতাংশ চার্জ হয়ে যাবে বলে দাবি করছে বিভিন্ন সূত্র। একই সঙ্গে ডিজেআই তাদের অডিও সিস্টেমকেও উন্নত করেছে, যেখানে বিল্ট-ইন মাইক্রোফোনগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্টভাবে শব্দ ধারণ করতে পারবে এবং চারপাশের অপ্রয়োজনীয় আওয়াজ বা নয়েজ স্বয়ংক্রিয়াভাবে কমিয়ে দেবে।
পণ্যটির দাম এবং বাজারে আসার সময় সম্পর্কে ডিজেআই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এটি বিশ্ববাজারে অবমুক্ত করা হতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির কারণে এর দাম পকেট ৩ এর তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর সক্ষমতা এবং বহনযোগ্যতা বিবেচনা করলে পেশাদারদের কাছে এটি একটি অপরিহার্য যন্ত্রে পরিণত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রযুক্তি প্রেমীরা এখন কেবল ডিজেআই-এর অফিশিয়াল ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
