মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ডলি উড থেকে পালালো ঈগল: বিরল পাখিদের বাঁচাতে চিরুনি অভিযান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১২, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

ডলি উড থেকে পালালো ঈগল: বিরল পাখিদের বাঁচাতে চিরুনি অভিযান

আমেরিকার টেনেসির গহীন পাহাড়ে এখন এক অভূতপূর্ব উদ্ধার অভিযান চলছে। লক্ষ্য কোনো অপরাধী নয়, বরং দেশটির জাতীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত তিনটি ন্যাড়া মাথার ঈগল (Bald Eagle)। গত দুই সপ্তাহ আগে টেনেসির বিখ্যাত থিম পার্ক ‍‍`ডলি উড‍‍` থেকে এক ভয়াবহ ঝড়ের সময় এই ঈগলগুলো পালিয়ে যায়। একটি শতাব্দী প্রাচীন গাছ উপড়ে পড়ে ঈগলদের নিরাপদ বেষ্টনী বা নেট ছিঁড়ে গেলে এই সুযোগ পায় পাখিগুলো। এরপর থেকেই আমেরিকান ঈগল ফাউন্ডেশনের (AEF) বিশেষজ্ঞ, পুলিশ এবং বনবিভাগ একযোগে তাদের খুঁজে বের করার লড়াই চালাচ্ছে।

নিখোঁজ হওয়া তিনটি ঈগলের নাম হলো রকল্যান্ড, ওয়েসলি এবং সিজার। এর মধ্যে গত সপ্তাহের শেষে সিজারকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সিজারকে একটি স্থানীয় চারণভূমিতে দেখা গিয়েছিল। সেখানে ফাউন্ডেশনের একজন বিশেষজ্ঞ, যাকে সবাই ‍‍`পাখি বিশারদ‍‍` হিসেবে চেনেন, অনেক চেষ্টার পর ক্লান্ত সিজারকে জালে বন্দী করতে সক্ষম হন। তবে বাকি দুই সঙ্গী—রকল্যান্ড এবং ওয়েসলি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশেষ করে রকল্যান্ডকে রোববার টেনেসির বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেলেও সে বারবার উড়াল দিয়ে ধুরন্ধর হ্যাকারের মতো উদ্ধারকারীদের ফাঁকি দিয়েছে। কখনো হোটেলের ছাদ, কখনো আবার পার্ক করা গাড়ির ওপর তাকে দেখা গেছে, কিন্তু জালের নাগালে আসার আগেই সে আকাশে ডানা মেলেছে।

এই ঈগলগুলোর নিখোঁজ হওয়া কেন এত উদ্বেগের? আমেরিকান ঈগল ফাউন্ডেশনের সিইও লরি মুরের মতে, এই ঈগলগুলো ‍‍`নন-রিলিজেবল‍‍` বা বুনো পরিবেশে বেঁচে থাকার উপযোগী নয়। এদের ওড়ার ক্ষমতা সীমিত এবং এরা বুনো পরিবেশে নিজের খাবার নিজে শিকার করতে অভ্যস্ত নয়। ফলে দীর্ঘ সময় লোকালয়ের বাইরে থাকলে এদের অনাহারে মৃত্যু বা অন্য বন্যপ্রাণীর হামলার শিকার হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। ফাউন্ডেশন থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ পাখিদের পায়ে বিশেষ রঙের ব্যান্ড লাগানো আছে। সিজার ও রকল্যান্ডের পায়ে কমলা রঙের ব্যান্ড এবং নারী ঈগল ওয়েসলির পায়ে কালো রঙের ব্যান্ড রয়েছে।

ডলি পার্টন এই ঈগল সংরক্ষণের কাজে গত ৩৫ বছর ধরে যুক্ত রয়েছেন। ২০০৩ সালে তিনি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল জু-তে দুটি ন্যাড়া মাথার ঈগল দান করেছিলেন এবং তখন থেকেই তিনি এই পাখিদের সুরক্ষায় সোচ্চার। ডলি পার্টনের নিজের শহর সেভিয়ারভিলে অবস্থিত এই অভয়াশ্রমটি বিশ্বের বৃহত্তম ন্যাড়া মাথার ঈগল আশ্রয়কেন্দ্র। লরি মুর জানান, ইন্ডিয়ানা, ভার্জিনিয়া এমনকি জর্জিয়া থেকেও তাদের কাছে ঈগল দেখার তথ্য আসছে। তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে স্মোকি মাউন্টেনস এলাকা থেকেই।

রোববারের বৃষ্টির দিনে রকল্যান্ডকে ধরার জন্য বড় ধরনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। উদ্ধারকারীরা আশা করেছিলেন বৃষ্টির কারণে ভিজে যাওয়া পাখা নিয়ে সে বেশিক্ষণ উড়তে পারবে না। কিন্তু রকল্যান্ড এখনো তার ‍‍`দুষ্টুমি‍‍` চালিয়ে যাচ্ছে এবং লোকালয়ের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। উদ্ধারকারী দল এখন দিনরাত এক করে ডলি উডের পাহাড়ে পাহাড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। লরি মুরের ভাষায়, “যখনই আমরা কোনো নির্ভরযোগ্য খবর পাই যে আমাদের একটি পাখি দেখা গেছে, তখনই আমাদের শরীরে অ্যাড্রেনালিন বইতে শুরু করে। আমরা জানি, হয়তো এটাই আমাদের শেষ সুযোগ আমাদের পাখিকে ঘরে ফিরিয়ে আনার।”

banner
Link copied!