বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন যে হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত এমভি হন্ডিয়াস প্রমোদতরি থেকে সব যাত্রীকে সরিয়ে নেওয়ার পর আপাতত বড় কোনো প্রাদুর্ভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে মঙ্গলবার মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে এই পরিস্থিতি যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে। ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল দীর্ঘ হওয়ার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও নতুন সংক্রমণের খবর আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সংস্থাটির মতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ এখনও শেষ হয়নি এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।
এমভি হন্ডিয়াস নামের এই জাহাজটি গত সোমবার স্পেনের টেনেরিফ দ্বীপ ত্যাগ করেছে এবং বর্তমানে এটি নেদারল্যান্ডসের রটারডাম বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার শেষ দফায় ২৮ জন যাত্রীকে বিশেষ ফ্লাইটে নেদারল্যান্ডসের আইন্দহোভেনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই প্রমোদতরিতে ভ্রমণের পর এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে সাতজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন মার্কিন এবং একজন ফরাসি নাগরিক রয়েছেন যারা নিজ দেশে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই সংক্রমণের গতিবিধি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে নেদারল্যান্ডসের নাইমেগেন শহরের একটি হাসপাতালের ১২ জন কর্মীকে সতর্কতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন হান্টাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর রক্ত ও মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করার সময় কর্মীরা কঠোর সুরক্ষা প্রটোকল অনুসরণ করেননি বলে জানা গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোমবার জানিয়েছে যে এটি একটি আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যদিও এখনও ওই কর্মীদের শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি, তবুও ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার রোধে তাদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায় বলে পরিচিত। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ধারণা করছে যে এমভি হন্ডিয়াস জাহাজের যাত্রীরা দক্ষিণ আমেরিকায় থাকাকালীন `আন্দেজ স্ট্রেন` নামক একটি বিশেষ ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন। এই নির্দিষ্ট ধরনটি মানুষের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে যা উদ্বেগের অন্যতম কারণ। এই ভাইরাসের সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড জ্বর, ক্লান্তি, পেশিব্যথা, পেটে ব্যথা, বমি এবং শ্বাসকষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি কম থাকলেও আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হতে পারে।
ডাচ পতাকাবাহী জাহাজটি আগামী ১৭ মে রটারডাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি বন্দরে ভেড়ার পর এর মালিকপক্ষ ওশানওয়াইড এক্সপিডিশন পুরো নৌযানটি জীবাণুমুক্ত করার কাজ শুরু করবে। বর্তমানে জাহাজটিতে কেবল ২৭ জন সদস্য রয়েছেন যাদের মধ্যে ২৫ জন ক্রু এবং দুইজন চিকিৎসাকর্মী। এদের মধ্যে ইউক্রেন, রাশিয়া, পোল্যান্ড এবং ফিলিপাইনের নাগরিকরা রয়েছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের নাগরিকরা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নেদারল্যান্ডসে পৌঁছানোর পর তারা নিয়ম অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই জাহাজটির গতিপথ এবং যাত্রীদের স্বাস্থ্যের ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
