ইরানের রাজধানী তেহরান যুদ্ধের বিধ্বংসী প্রভাব কাটিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জোরদার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তেহরান সিটি কর্পোরেশন সোমবার থেকে সেইসব নাগরিকদের আবাসন ভাতা বা জামানত প্রদান শুরু করেছে যাদের ঘরবাড়ি যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্য বিভাগের উপপ্রধান নাসরোল্লাহ আবাদিয়ান এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের জন্য দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর সংস্কার কাজ ত্বরান্বিত করা যাতে জনজীবন পুনরায় স্থিতিশীল হয়।
তেহরানের মোট ২২টি অঞ্চলের স্থানীয় কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অফিসে গিয়ে তাদের ফাইল বা নথিপত্র অনুসরণ করে এই ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন। নাসরোল্লাহ আবাদিয়ান নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা দ্রুত সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের অস্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থাটি চূড়ান্ত করেন। এটি করা হলে সরকার বা সিটি কর্পোরেশন তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবে। এই প্রশাসনিক তৎপরতা নাগরিক মনে এক ধরনের আস্থার সঞ্চার করেছে যে শহরটি দ্রুত তার হারানো জৌলুস ফিরে পাবে।
ক্ষয়ক্ষতির গভীরতা ও ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে তেহরান সিটি কর্পোরেশন ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোকে মোট চারটি নির্দিষ্ট স্তরে বিন্যস্ত করেছে। এই স্তরগুলো হলো হালকা ক্ষতি, মাঝারি ক্ষতি, সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং অত্যন্ত সংকটাপন্ন বা কঠিন অবস্থা। প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে হালকা ক্ষতিগ্রস্ত পর্যায়ের প্রায় ৩৯ হাজার প্লটের সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। এই ইতিবাচক অগ্রগতির ফলে ওইসব ইউনিটের বাসিন্দারা ইতিমধ্যে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছেন যা শহরের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যেসব ভবন মাঝারি ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলোর মেরামতের কাজ বর্তমানে সরকারি ঠিকাদার এবং বাড়ির মালিকদের যৌথ সহযোগিতায় চলমান রয়েছে। এই পর্যায়ের প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটের মেরামতের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ কোটি তুমান পর্যন্ত আর্থিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নাসরোল্লাহ আবাদিয়ান আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী জুন মাসের শেষ নাগাদ মাঝারি ক্ষতিগ্রস্ত সব ইউনিটের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হবে। এই বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রকৌশলগত কর্মযজ্ঞ সফল হলে তেহরানের আবাসন সংকটের একটি বড় অংশ নিরসন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তেহরানের এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াটি কেবল ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি নাগরিকদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষার একটি অংশ। দীর্ঘ যুদ্ধের ধকল কাটিয়ে উঠতে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সিটি কর্পোরেশন তাদের তদারকি ব্যবস্থা কঠোর করেছে যাতে বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ভবন মেরামতে ব্যয় হয়। তেহরানের আকাশ এখন ধোঁয়ার বদলে পুনর্গঠনের ধুলোয় ধূসর হলেও নাগরিকরা আগামীর এক নিরাপদ ও আধুনিক তেহরানের স্বপ্ন দেখছেন। প্রশাসনিক এই তৎপরতা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই শহরটি তার স্বাভাবিক চেহারায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
