মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হিজবুল্লাহর নতুন ড্রোনের সামনে ইসরায়েলের অসহায়ত্ব প্রকাশ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১২, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম

হিজবুল্লাহর নতুন ড্রোনের সামনে ইসরায়েলের অসহায়ত্ব প্রকাশ

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নতুন প্রজন্মের ড্রোন মোকাবিলায় নিজেদের চরম অক্ষমতার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত আধুনিক ফাইবার অপটিক নিয়ন্ত্রিত ড্রোনগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমানে কার্যকর কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা প্রযুক্তিগত সমাধান ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে নেই। এই স্বীকারোক্তি লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের জন্য এক বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, উত্তর ফ্রন্টের রিজার্ভ স্থলবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে ফাইবার অপটিক প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রিত ড্রোনগুলো প্রচলিত ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা জিপিএস স্পুফিংয়ের মাধ্যমে আটকানো অসম্ভব। সাধারণ ড্রোন যেখানে বেতার তরঙ্গের ওপর নির্ভর করে, সেখানে এই ড্রোনগুলো ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে সরাসরি অপারেটর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এর ফলে ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম এই ড্রোনগুলোকে শনাক্ত করতে বা পথভ্রষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-ও তাদের এক প্রতিবেদনে একই ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখন হিজবুল্লাহর বিস্ফোরকবাহী এই ড্রোনগুলোকে তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। উত্তর ফ্রন্টের কমান্ড ড্রোন অপারেটরদের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম কয়েক গুণ জোরদার করলেও এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি। একজন রিজার্ভ সেনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “আকাশে যুদ্ধবিমান নজরদারি করা সত্ত্বেও আমরা এই ছোট ছোট ড্রোনের সামনে নিজেদের সম্পূর্ণ অসহায় বোধ করছি।”

সামরিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ড্রোনগুলো প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান, চলন্ত যানবাহন এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে হিজবুল্লাহর এই ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ সফলভাবে আঘাত হানছে। ড্রোনগুলোর এই নির্ভুলতা ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সীমান্ত সংঘাতে এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত করছে।

এই পরিস্থিতির কারণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বসতিগুলো থেকে পালিয়ে যাওয়া নাগরিকদের ফিরে আসার প্রক্রিয়াও অনির্দিষ্টকালের জন্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাসিন্দারা নিরাপত্তার অভাবে ঘরে ফিরতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, যা ইসরায়েলি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করছে। হিজবুল্লাহর এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রমাণ করে যে তারা যুদ্ধের ময়দানে নিয়মিতভাবে নিজেদের আধুনিকায়ন করছে এবং ইসরায়েলের ‘অপ্রতিরোধ্য’ সামরিক ইমেজের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানছে। আপাতত কোনো প্রযুক্তিগত সমাধান না থাকায় লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

banner
Link copied!