মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

কবে হতে পারে ঈদুল আজহা? পূর্বাভাস দিল মহাকাশ গবেষণা সংস্থা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১২, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

কবে হতে পারে ঈদুল আজহা? পূর্বাভাস দিল মহাকাশ গবেষণা সংস্থা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা কবে উদযাপিত হতে পারে, তা নিয়ে আগাম পূর্বাভাস দিয়েছে পাকিস্তানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ কমিশন বা সুপারকো। মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৭ মে পাকিস্তানে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ ওঠার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সময়ের ওপর ভিত্তি করেই এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো এমন বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকাশ করে থাকে।

সুপারকোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৭ মে মধ্যরাতে অর্থাৎ রাত ১টা ১ মিনিটে ১৪৪৭ হিজরি সালের জিলহজ মাসের নতুন চাঁদের জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই দিন সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বিশেষ করে পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সূর্যাস্ত এবং চাঁদ অস্ত যাওয়ার মধ্যে প্রায় ৬০ মিনিটের একটি ব্যবধান থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সময়ের ব্যবধান এবং চাঁদের বয়সের ওপর ভিত্তি করেই ১৭ মে সন্ধ্যায় জিলহজের চাঁদ দেখার সম্ভাবনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক বা অনুকূল বলে মনে করছে সুপারকো।

তবে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি এটিও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চাঁদ দেখার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সেই দিনের পরিষ্কার আকাশ এবং দিগন্তের দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করবে। যদি ওই দিন আবহাওয়া মেঘলা থাকে বা ধূলিকণা বেশি থাকে, তবে খালি চোখে চাঁদ দেখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। সুপারকোর হিসাব অনুযায়ী, যদি ১৭ মে চাঁদ দেখা যায় তবে ১৮ মে সোমবার থেকে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাস শুরু হবে এবং এর মাধ্যমেই চলতি জিলকদ মাস শেষ হবে। এই সময়রেখা অনুযায়ী ১০ জিলহজ অর্থাৎ ২৭ মে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

যদিও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পূর্বাভাস প্রদান করে থাকে, তবে ইসলামিক পঞ্জিকা অনুযায়ী মাস শুরু বা ঈদের চূড়ান্ত ঘোষণার এখতিয়ার তাদের হাতে নেই। সুপারকোর বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং ঈদ শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রুইয়াত-ই-হিলাল কমিটি। দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য এবং মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই এই কমিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। সারা বিশ্বের মুসলিমদের মতো পাকিস্তানিরাও এখন এই ধর্মীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল একটি উৎসব। সাধারণত জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার ১০ দিন পর এই ঈদ পালিত হয়। সুপারকোর এই পূর্বাভাস কেবল পাকিস্তান নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ঈদের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে একটি ধারণা প্রদান করছে। যেহেতু বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে সাধারণত একই দিনে বা একদিনের ব্যবধানে চাঁদ দেখা যায়, তাই সুপারকোর এই তথ্য এই অঞ্চলের মানুষের কাছেও গুরুত্ব বহন করছে। চূড়ান্ত দিনক্ষণ জানতে আগামী ১৭ মে সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে।

banner
Link copied!